স্বাস্থ্য বিষয়ক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
স্বাস্থ্য বিষয়ক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২২ জুলাই ২০১৬

Dilip Poddar

ডায়াবেটিস হলে ত্বকের সমস্যা ও তার সমাধান দেখে নিন

সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যাদের ডায়াবেটিস আছে এবং যারা এই রোগের দ্বার প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন তাদের মধ্যে ত্বকের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।
ডায়বেটিস এবং ত্বকের উপর এর প্রভাব নিয়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনে জানানো হয়, আমাদের দেহের সবচেয়ে বড় অঙ্গ হল ত্বক। যা সমগ্র দেহকে আবরণ দেয়। বিশাল এই অঙ্গের ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন রূপে সংক্রামণ দেখা দিতে পারে।

কেনো এই ত্বকের সমস্যা

ভারতীয় চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ড. অপ্রতীম গোয়েল জানান, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা চর্ম রোগে ভোগেন। গরমকালে এই রোগের প্রকোপ বেশ বেড়ে যায়।

গরম এবং আর্দ্রতার কারণে সবারই কম বেশি চর্মরোগ হতে পারে। তবে যারা বহুমূত্ররোগগ্রস্ত তাদের ডায়াবেটিসও একটা কারণ। অপরদিকে ডায়াবেটিসের কারণে ক্ষতও সহজে শুকায় না। তাই সমস্যা জটিল আকার ধারণ করে। এছাড়াও যাদের দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস আছে তাদের ত্বক অন্যদের থেকে শুষ্ক হয়ে যায় এবং চুলকানির সমস্যা দেখা যায়।

ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ড. প্রদীপ গাজী বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন এভাবে, “রক্তে থাকা উচ্চ মাত্রার শর্করা ছত্রককে ত্বকে বসবাস করার মতো উপযুক্ত পরিবেশ দেয়। ফলে ত্বকে ছত্রাক ও অন্য রোগ জীবাণুরা বসবাসের সুযোগ পায়।” 

ড. গাজী আরও জানান, রক্তের শর্করার পরিমাণ যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় তবে ত্বকের সিবেইসাস ও ঘাম গ্রন্থিতে প্রভাব ফেলে। ফলে হাত ও পা চুলকায়। যা পরে ছত্রাকের বসবাসের স্থান তৈরিতে সহায়তা করে।

চিকিৎসা

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত ত্বক পরীক্ষা করে দেখতে হবে হবে। প্রতিদিন দেখতে হবে ত্বকে কোনো ঘামাচি, ফোড়া, ফুসকুড়ি ধরনের কিছু হয়েছে কি-না।

বিশেষ করে ত্বকের যেসব জায়গায় ইনসুলিন দেওয়া হয় সে সব জায়গায়।

চর্মরোগ থেকে বাঁচতে হলে রক্তের শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এটাই সর্বোত্তম পন্থা। তাছাড়া ডায়াবেটিকদের স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করার মতো সাধারণ নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে।

এতেও যদি কাজ না হয় তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে।

ড. গোয়েল বলেন, “নিয়মিত ত্বকের যত্ন নিলে ডায়াবেটিস ঘটিত ত্বকের সমস্যা দূরে রাখা যায়।”


Read More
Dilip Poddar

ডায়াবেটিস মাত্র ৩০ দিনে নিয়ন্ত্রন করুন।

ডায়াবেটিস মাত্র ৩০ দিনে নিয়ন্ত্রন করুন।

ডায়াবেটিস মাত্র ৩০ দিনে নিয়ন্ত্রন করুন।


ডায়াবেটিস, ডায়েবেটিস, ডায়বেটিস, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন করুন,

সারা বিশ্বে ডায়াবেটিস একটি বড় সমস্যা। ডায়াবেটিস হলে ওষুধের পাশাপাশি খাওয়াদাওয়ার মাধ্যমে শরীরের শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়। কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো শরীরের শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখে এবং ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। এই স্বাস্থ্যকর খাবারগুলো প্রতিদিন খাওয়া প্রাকৃতিকভাবেই ডায়াবেটিসের সঙ্গে লড়াই করে। এগুলো ৩০ দিনের মধ্যে ডায়াবেটিস কমাতে বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে লাইফস্টাইল বিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই জানিয়েছে খাবারগুলোর কথা। ডায়াবেটিস, ডায়েবেটিস, ডায়বেটিস, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন করুন,

কাঠবাদাম :- কাঠবাদাম ডায়াবেটিক রোগীর জন্য পরম বন্ধু। এই খাবারে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ আঁশ এবং প্রোটিন; যা ডায়াবেটিসের সঙ্গে লড়াই করে ৩০ দিনে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। ডায়াবেটিস, ডায়েবেটিস, ডায়বেটিস, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন করুন,

গ্রিন টি :- গ্রিন টির মধ্যে রয়েছে ফিটোনিউট্রিয়েন্টস যেমন : ক্যাটাচিন এবং ট্যানিন্স। এগুলো রক্তের শর্করার ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে। তাই দিনে দুই বেলা গ্রিন টি পান করলে ৩০ দিনে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। ডায়াবেটিস, ডায়েবেটিস, ডায়বেটিস, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন করুন,

আপেল :- বলা হয়, প্রতিদিন একটি আপেল খাওয়া রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। এটি রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ডায়াবেটিস কমাতে কাজ করে। এ ছাড়া এটি কোলেস্টেরলও কমায়। ডায়াবেটিস, ডায়েবেটিস, ডায়বেটিস, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন করুন,


গাজর :- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে গাজর অন্যতম একটি খাবার। এর মধ্যে রয়েছে বেটা কেরোটিন। এই কমলা রঙের সবজিটিতে কম পরিমাণ শর্করা রয়েছে, যা শরীরের ইনসুলিনের মাত্রাকে ঠিক রাখতে বেশ কার্যকর।

মাছ :- ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিডসমৃদ্ধ মাছ খাওয়া ডায়াবেটিসের জন্য ভালো। এটা ইনসুলিনের মাত্রা কমায়। সপ্তাহে অন্তত দুদিন এই জাতীয় মাছ খেতে হবে।

জলপাইয়ের তেল :- বর্তমানে অনেকেই রান্নায় জলপাইয়ের তেল ব্যবহার করেন। এর মধ্যে রয়েছে ভালো মানের চর্বি; যেটা ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। নিয়মিত জলপাইয়ের তেল খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ডায়াবেটিস, ডায়েবেটিস, ডায়বেটিস, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন করুন,

সাইট্রাস ফুড :- সাইট্রাস খাবারের মধ্যে কমলা অন্যতম। এর মধ্যে থাকা ফিটোনিউট্রিয়েন্টস ডায়াবেটিসের সঙ্গে লড়াই করে। এ ছাড়া কমলার মধ্যে রয়েছে ফ্ল্যাবোনয়েডস, ক্যারোটিনয়েডস, টারপিন, প্যাকটিনস ইত্যাদি। এগুলো শরীরের জন্য বেশ উপকারী।

ওটস :- ওটসের মধ্যে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট; যা রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাই নিয়ম করে ৩০ দিন ওটস খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসবে।

Read More
Dilip Poddar

ঠিকমতো ঘুম না হলে যে ৬ টি শারীরিক সমস্য হতে পারে।

ঘুম, ডায়বেটিস, শারীরিক সমস্য, কম ঘুম,
ঠিকমতো ঘুম না হলে যে ৬ টি শারীরিক সমস্য হতে পারে।


রাতে ছয় ঘণ্টার কম ঘুম হয় এমন মানুষদের এক-চতুর্থাংশ কার্ডিওভাসকুলার সমস্যায় ভোগেন। ‘স্লিপ’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে। তাদের ধমনীতে রক্ত চলাচলে বাধা, দুর্বল বোধ করাসহ দুর্বল হার্টবিটের সমস্যা হতে পারে বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়।



হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের গবেষকরা জানাচ্ছেন ঘুমের সমস্যায় শরীরে যে ৭ ধরনের প্রভাব পড়তে পারে তার বিষয়ে।

১. রিফ্লেক্স : টানা ২৪ ঘণ্টা নির্ঘুম কাটালে মস্তিষ্কের কগনিটিভ মোটরের দশা এমন হয় যেন মানুষটি অ্যালকোহল খেয়েছেন। এ সময় মধ্যম ক্যাফেইনযুক্ত এক কাপ কফি খেয়ে ২০ মিনিট ঝিমিয়ে নিন। লগবোরোহ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় গাড়িচালকদের এ সমস্যায় সাবধান থাকতে বলা হয়েছে।
২. পাকস্থলী : যারা অভ্যাসগতভাবে দিনে ৫ ঘণ্টা ঘুমান তাদের পাকস্থলীতে লেপটিন হরমোনের পরিমাণ ১৫.৫ শতাংশ কমে যায়। এটি আপনাকে ভরপেট অনুভব করতে সহায়তা করে এবং ফ্যাট সঞ্চয়ের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে। ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিনের গবেষণায় এসব তথ্য জানানো হয়।

৩. কোমর : স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানান, যারা রাতে মাত্র ৫ ঘণ্টা ঘুমান তাদের বডি ম্যাস ইনডেক্স গড়ের চেয়ে ৩.৬ শতাংশ বেশি থাকে। তাদের মাঝে স্থূলতা দেখা দেয়। বিশেষ করে কোমরে চর্বি জমে যায়।
৪. রক্তচাপ : যারা ৬ ঘণ্টার কম ঘুমান তাদের সিসটোলিক বিপি ১৩২-এ উঠে যায়। এর স্বাভাবিক মাপ ১২০ এর কম। ঘুমের অভাবে কর্টিসল হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যায় যাকে স্ট্রেস হরমোন বলা হয়। ঘুম, ডায়বেটিস, শারীরিক সমস্য, কম ঘুম,
৫. অগ্ন্যাশয় : রাতে গড়ে ৬ ঘণ্টা ঘুমের কারণে পুরুষদের ডায়াবেটিস দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা দ্বিগুণ বেড়ে যায়। ইয়েল ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
৬. মস্তিষ্ক : টানা তিন দিন ধরে দিনে ১৯ ঘণ্টা করে জেগে থাকলে মস্তিষ্কের কোষগুলো মরে যাওয়া শুরু করে। পশুদের ওপর করা এই গবেষণায় এমন ফলাফল পাওয়া গেলেও বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন মানুষের মস্তিষ্কের ক্ষেত্রেও তাই হবে। এ সমস্যায় আলঝেইমার এবং ডেমেনশিয়া হতে পারে এমন প্রোটিনকে পরিষ্কার করতে পারে না মস্তিষ্ক।

Read More
Dilip Poddar

ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য রোগে টক দই।

ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য রোগে টক দই।
ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য রোগে টক দই।


দুধ একটি আদর্শ খাবার। দুধ হতে দই, মাখন ,ঘি, পনির ইত্যাদি মুখরোচক খাবার তৈরী হয়।তবে এই খাবারগুলোর খাদ্যমান দুধের মান বজায় থাকে বা কিঞ্চিত অপরিবর্তিত হয়। দই ঠিক তেমন একটি খাদ্য যাতে দুধের সকল গুণাবলী বিদ্যমান সাথে আরো কিছু বাড়তি বৈশিষ্ট বিদ্যমান যা নিয়মিত খেলে এমন কিছু common diseases আছে যেগুলা থেকে দূরে থাকা যায় এবং health এর এমন কতকগুলো অঙ্গ আছে যেগুরা সুস্থ ও সবল রাখতে কার্য
করী ভূমিকা পালন করে। চলুন জানা যাক দই খেলে কি কি উপকার হয়?

১.দই খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া ও কোলন ক্যান্সার কমায় খুব কম হয়।কারণ দইতে আছে ল্যাকটিক অ্যাসি
।

২. দই খেলে হজম খুব ভালো হয়।

৩. হাঁড় ও দাঁত মজবুত রাখতে টক দই খান।কারণ টক দইতে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘ডি’ আছে।যেগুলো খুবই প্রয়োজনীয়।

৪. যে দইতে ফ্যাট কম আছে এমন টক দই খান।দেখবেন রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল ‘এলডিএল’ কমে যাবে।

৫. দইতে যে আমিষ বিদ্যমান তা দুধের চেয়ে খুব কম সময়ে হজম হয়।যাদের দুধে সমস্যা তার দই খেতে পারেন।

৬.টক দই রক্ত পরিশোধন করতে সাহায্য করে। দেহের রক্ত পরিশোধনে টক দইয়ের জুড়ি নাই।

৭. যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে তারা নিয়মিত টকদই খান।এত করে আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে থাকবে।

৮. যাদের ডায়াবেটিস ,হার্টের অসুখ আছে তারা নিয়মিত টক দই খান। দেখবেন ডায়াবেটিস ,হার্টের অসুখ নিয়ন্তওনে আসবে।

৯. নিয়মিত টক দই খেলে শরীরে টক্সিন জমে।অন্ত্রনালী পরিষ্কার রেখে শরীরকে সুস্থ রাখে ও বুড়িয়ে যাওয়া বা অকাল বার্ধক্য রোধ করতে সাহায্য করে। দেখবেন শরীরে টক্সিন কমার কারণে ত্বকের সৌন্দর্যও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়।

১০ যাদের ওজন বেশি তার টক দই খান।কারণওজন কমাতে কম ফ্যাটযুক্ত ও চিনি ছাড়া টক দই খুবই কার্যকরী।

Read More
Dilip Poddar

১১ দিনে ডায়েবেটিস একেবারে সেরে যাবে।

১১ দিনে ডায়েবেটিস একেবারে সেরে যাবে।
১১ দিনে ডায়েবেটিস একেবারে সেরে যাবে।




ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ নির্মূল করা যায়, কথাটি শুনলে যে কারোই ভড়কে যাবার কথা, কারণ ডায়াবেটিস একবার দেহে বাসা বাধলে তা কখনোই পরিপূর্ণ ভাবে সারে না, তবে পরিমিত পরিমান খাবার গ্রহন করে তা নিয়ন্ত্রনে রেখে দীর্ঘদিন সুস্হ থাকা সম্ভব, কিন্তু বৃটেনের বিজ্ঞানী রিচার্ড ডটির দাবী মাত্র ১১ দিনের মধ্যেই ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

বৃটেনের রিচার্ড ডটি (৫৯) নামের এক ব্যক্তি বেশ অল্প ক্যালোরিসম্পন্ন খাবার খেয়ে ১১ দিনেই ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি কি খাবার খেয়ে এটা করতে পেরেছেন তার একটি চার্ট প্রকাশ করেছেন। যা যা খেতেন, তার তালিকা একেবারেই ছোট। ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যা কখনও সম্পূর্ণ নির্মূল হয় না। এমন প্রচলিত ধারণাকে পাল্টে দিয়েছেন রিচার্ড। মানুষ শরীর থেকে অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে বিভিন্ন ডায়েট পরিকল্পনা করে। কিন্তু তিনি প্রায় অভুক্ত থাকার ডায়েটেই নিরোগ শরীর পেলেন। রিচার্ড লম্বায় ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি, তার ওজন ৬৭ কেজি। রুটিনমাফিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান তিনি। শেষবার যখন পরীক্ষা করালেন, ফলাফলে রীতিমতো চমকে উঠলেন তিনি। রিপোর্টে জানা গেলো, টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। রিচার্ডের বংশে কারও ডায়াবেটিস ছিল না। তার ওজনও অতিরিক্ত নয়। তিনি সবসময় সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মেনে চলেন। জীবনে কখনও সিগারেট স্পর্শ করেননি। এত সব সত্ত্বেও ডায়াবেটিস ধরা পড়লে যে কারও চোখই কপালে উঠবে। রিচার্ডেরও তা-ই হলো। তিনি রীতিমতো কিংকর্তব্যবিমূঢ়। ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি পেতে এবার শুরু হলো তার নিরন্তর প্রচেষ্টা। ইন্টারনেটে সমাধান খুঁজলেন। নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের তৈরি করা একটি স্বল্প ক্যালোরিসম্পন্ন ডায়েটের সন্ধান পেলেন তিনি।

ওই বিজ্ঞানীদের দাবি, এ ডায়েট অনুসরণে ৮ সপ্তাহেই ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ নির্মূল সম্ভব। ওই ডায়েটের মধ্যে ছিল ৬০০ ক্যালোরির মিল্ক শেক ও সুপ এবং ২০০ ক্যালোরির সবজি। আর দিনে ৩ লিটার পানি পান। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএনআই। রিচার্ড জানান, একটা সুপ, দু’টো শেক আর সবুজ শাকসবজি খেয়ে বেঁচে থাকাটাকে প্রথম দিকে বেশ দুঃসাধ্য কাজ মনে হয়েছিল তার কাছে। তবে তিনি হাল ছাড়লেন না। টানা ১১ দিন এ ডায়েট অনুসরণ করলেন। অকল্পনীয় হলেও সত্যি! তার রক্তে সুগারের পরিমাণ স্বাভাবিক হয়ে গেল। অর্থাৎ নন-ডায়াবেটিক লেভেলে নেমে এলো ব্লাড সুগার। এ সময়টায় রিচার্ডের ওজন কমেছিল। এরপর তিনি ফের ডায়াবেটিস পরীক্ষা করে দেখলেন তার শরীর থেকে ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ নির্মূল হয়েছে। দীর্ঘদিন পরও তিনি একেবারেই ডায়াবেটিসমুক্ত। আর ওজনটাকে তিনি ৫৭ কেজির মধ্যেই ধরে রেখেছেন। রিচার্ড ডটির এ সাফল্য নিঃসন্দেহে বিশ্বের কোটি কোটি ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষকে নতুন পথের সন্ধান দেবে। একই বা কাছাকাছি পথ অনুসরণ করে অনেকেই হয়তো নিরোগ জীবন ফিরে পাবেন। তথ্যসূত্র : ইন্টারনেট

Read More
Dilip Poddar

ঘুম ঠিকমতো না হলে যে ভয়নক রোগগুলি হয়।

ঘুম ঠিকমতো না হলে যে ভয়নক রোগগুলি হয়।

ঘুম ঠিকমতো না হলে যে ভয়নক রোগগুলি হয়।


শিল্পোন্নত দেশগুলোর অন্তত দশ শতাংশ মানুষ ঘুমের সমস্যায় ভোগে৷ অথচ সুস্থভাবে জীবনযাপনের জন্য নিয়মিত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ পর্যাপ্ত ঘুম না হলে কী হতে পারে, তা গবেষণা করেছেন বিজ্ঞানীরা৷
নিদ্রাহীনতা নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণা-
বুধবার ভোর, ছয়টার মতো বাজে৷ ডানিয়েলা স্পেট বিছানা ত্যাগ করছেন৷ আগামী ৩৬ ঘণ্টা না ঘুমিয়ে থাকবেন তিনি৷ এটা একটা পরীক্ষা, যাতে স্বেচ্ছায় অংশ নিচ্ছেন তিনি৷ পেশায় সাংবাদিক ডানিয়েলা স্পেট এই বিষয়ে বলেন, ‘‘আমি ঘুমাতে ভালোবাসি৷ ফলে লম্বা সময় জেগে থাকাটা আমার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে৷ এমন নয় যে আমি কখনো রাত জাগিনি৷ কিন্তু তখন সকালে ঘুমিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নিয়েছি৷ তবে এবার আমি সকালেও ঘুমাবো না৷ চেষ্টা করবো কাল সন্ধ্যা অবধি সজাগ থাকতে৷ শরীরের উপর বেশিক্ষণ জেগে থাকার প্রভাব দেখতে চাই৷”
আচ্ছা আমরা ঘুমাই কেন? ঘুমের কি তেমন কোনো প্রয়োজন আছে? এ নিয়ে গবেষণা হলেও এখনো তার ফলাফল সেভাবে পাওয়া যায়নি, আসল কারণ অনেকটা অন্ধকারেই রয়ে গেছে৷ একথা বলেন ডাক্তার হান্স গ্যুন্টার ভেস, যিনি এক স্লিপিং ল্যাবোরেটরির প্রধান৷ তিনি আরো বলেন, ‘‘তবে যা আমরা সবাই জানি সেটা হলো, রাতে কারো ঘুম না হলে তার মধ্যে পরদিন সকালে ক্লান্ত ভাব, কাজে অমনোযোগী ও অল্পতে রেগে যাওয়া, এসব লক্ষণ দেখা দেয়৷’’
ঘুম বিশেষজ্ঞ ড. লেনার্ট ক্নাক গবেষণার দায়িত্ব নিয়েছেন৷ এই চিকিৎসক সাধারণত তাঁর রোগীদের ভালোভাবে ঘুমাতে সহায়তা করেন৷ তবে এবার বিপরীতটা জানতে আগ্রহী তিনি৷ ইচ্ছাকৃতভাবে না ঘুমানোর মাধ্যমে তা জানা যেতে পারে৷
স্বাভাবিক অবস্থায় পরীক্ষা
ঘুমের ব্যাঘাত ঘটার পরিণতি জানতে ড. ক্নাক শুরুতে ডানিয়েলাকে স্বাভাবিক অবস্থায় পরীক্ষা করছেন৷ তিনি অনিয়মিত সিগন্যাল দেখতে এতটা সময় নিচ্ছেন তা মাপা হচ্ছে৷ দশ মিনিটের পরীক্ষা৷ এই বিষয়ে ড. ক্নাকে বলেন, ‘‘স্বাভাবিক অবস্থার ফলাফল বেশ ভালো এসেছে৷ তবে আগামীকাল একই পরীক্ষায় কী ফলাফল আসে তা আমি দেখতে আগ্রহী৷ এরপর দুটো ফলাফল তুলনা করবো৷”
না ঘুমিয়ে থাকা
একটানা ষোল ঘণ্টা না ঘুমিয়ে থাকা কোনো ব্যাপার নয়৷ অধিকাংশ মানুষই এই সময়টা না ঘুমিয়ে কাটায়৷ তবে দুপুরে খাওয়ার পর অনেকের ঘুম আসে৷ সন্ধ্যায় বেড়াতে যাওয়া, কফি পান আর ছবি দেখে ঘুম থেকে দূরে থাকা যায়৷ কিন্তু তারপর? ডানিয়েলা কিন্তু না ঘুমিয়ে থাকতে বদ্ধপরিকর৷ তিনি বলেন, ‘‘এখন প্রায় ভোর চারটা বাজে৷ আমি জেগে থাকার জন্য আর কী করবো তা ভেবে পাচ্ছি না৷ তবে আমি সজাগ থাকবোই৷”
পরীক্ষার দ্বিতীয় দিন
গত ত্রিশ ঘণ্টা ধরে না ঘুমিয়ে আছেন ডানিয়েলা৷ তাঁকে দেখলেই সেটা বোঝা যাচ্ছে৷ তাঁর এখন ঘুম দরকার৷ শরীরের যাবতীয় কার্যকলাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে, শক্তি ফিরে পেতে এটা দরকার৷
ঘুমে ব্যাঘাত ঘটলে মানুষ নানা রকম ভুল করতে পারে, অসুখ হতে পারে, দুর্ঘটনা ঘটতে পারে৷ যে নিয়মিত কম ঘুমায় তার স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে৷ ড. লেনার্ট ক্নাক এর কথায়, ‘‘ঘুমের অভাবে শরীরে মূলত দু’ধরনের বড় জটিলতা দেখা দিতে পারে৷
প্রথমত হৃদযন্ত্রে সমস্যা, মাথা ব্যথা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা স্ট্রোক হতে পারে৷ দ্বিতীয়ত বিষণ্ণতা এবং ভয়ের প্রবণতা বাড়তে পারে কম ঘুমের কারণে৷”
সজাগ শুয়ে থাকা
আবারও পরীক্ষা৷ ডানিয়েলাকে এবার একটি অন্ধকার ঘরে বিশ মিনিট সজাগ শুয়ে থাকতে হবে৷ এই টেস্টে যে পাশ করবে, সে হয়তো গাড়িও চালাতে পারবে৷ কিন্তু পাঁচ মিনিট পরেই মনিটরের সিগন্যালে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে গেছে৷ ডানিয়েলা ঘুমিয়ে পড়েছে৷ অথচ রিঅ্যাকশন টেস্ট তখনো বাকি৷ তাই তাঁকে ঘুম থেকে তুলতে হলো৷ এই পরীক্ষায় প্রথমবার ডানিয়েলা গড়ে ২২০ মিলিসেকেন্ডে সাড়া দিয়েছিল৷ কিন্তু এখন?
ড. ক্নাক বলেন, ‘‘গতকালের তুলনায় দ্বিগুণের চেয়েও বেশি আস্তে সাড়া দিচ্ছেন ডানিয়েলা৷ আমাদের মনে হয় পরীক্ষায় ইতি টানা উচিত৷ কারণ এর চেয়ে খারাপ ফলাফল আর হতে পারে না৷”
পরিকল্পিত সময়ের এক ঘণ্টা আগেই ডানিয়েলা স্পেট এর পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছে৷ ৩৫ ঘণ্টা না ঘুমিয়ে থাকা একটা অভিজ্ঞতা বটে৷
মধ্যবয়সি নারীদের ঘুমের সমস্যা বেশি…….
মধ্যবয়স্ক নারীদের মধ্যে প্রায় এক-চতুর্থাংশের ঘুমের সমস্যা রয়েছে৷ আর এই সমস্যার সঙ্গে জীবনমান, দীর্ঘস্থায়ী অসুখ এবং ওষুধের সম্পর্ক রয়েছে৷ সাম্প্রতিক এক গবেষণা থেকে জানা গেছে এসব তথ্য৷
ফিনল্যান্ডের টুর্কু বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন ড. পাইভি পোলো৷ তিনি বলেছেন, ‘‘সাধারণত আমরা ধরে নেই রজোনিবৃত্তির কারণে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয় তাই রজোনিবৃত্তিই সব সমস্যার কারণ৷” ফলে চিকিৎসকরা এটি মাথায় রেখেই চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করে বলে মনে করেন পোলো৷ তিনি তাঁর গবেষণায়, ঘুমের সঙ্গে অন্যান্য জটিলতার সম্পর্ক খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন৷
সাম্প্রতিক গবেষণায় তাই ঘুম সমস্যার অন্যান্য কারণের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে৷ পোলো এবং তাঁর সহকর্মীরা তাদের গবেষণায় ৮৫০ জন মধ্যবয়সি নারীর সহায়তা নিয়েছেন৷ তাদের বয়স গড়ে ৪২ বছর৷ এই নারীদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের ডায়াবেটিস, হৃদরোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী অসুখ রয়েছে৷ আর ২৮ শতাংশ নারী নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ করেন৷
এই নারীরা প্রায়ই অভিযোগ করেন, রাতের বেলা তাদের ঘুম ভেঙে যায়৷ ষাট শতাংশের সপ্তাহে অন্তত একবার এই সমস্যা হয়৷ ষোল শতাংশ নারীর সহজে ঘুম আসে না আর বিশ শতাংশের খুব সকালেই ঘুম ভেঙে যায়৷ সপ্তাহে অন্তত একদিন এমন হয়৷
সকালবেলা ঘুমভাব কাটে না ৪২ শতাংশ নারীর আর সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব থেকে যায় ৩২ শতাংশের৷
বলাবাহুল্য, ঘুমের সমস্যা যে-কোনো বয়সি মানুষেরই হতে পারে, তবে নারীদের মধ্যে এই সমস্যা একটু বেশি৷ মাসিক ঋতুচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হরমোনের পরিবর্তন এবং রজোনিবৃত্তিকে এজন্য কিছুটা দায়ী করা যেতে পারে, বলছেন গবেষকরা৷ তবে তারা মনে করেন, মাঝেমাঝে মদ্যপানের সঙ্গে ভালো ঘুম এবং কর্মস্থলে ঘুমিয়ে না পরার সম্পর্ক রয়েছে৷
ঘুমের সমস্যার সঙ্গে মেয়েদের ওজন এবং শারীরিক কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক তেমন একটা খুঁজে পাননি গবেষকরা৷ আসলে গবেষণায় সহায়তাকারী নারীরা সবাই সাধারণ শারীরিক গঠনের অধিকারী ছিলেন৷ সম্ভবত সেকারণেই এই বিষয়টি উঠে আসেনি৷ তবে এর আগে পরিচালিত এক গবেষণায় স্থুলতার সঙ্গে নিদ্রাহীনতার সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা৷
ড. পাইভি পোলো বলেন, ‘‘ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ আমরা আমাদের জীবনের এক-তৃতীয়াংশই ঘুমিয়ে কাটাই৷ আর ঘুমের সমস্যা কোনো রোগের পূর্বলক্ষণ হতে পারে৷ মানসিক অবস্থার কারণেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে৷ চিকিৎসকদের এসব বিষয় মাথায় রাখতে হবে৷”
আদর্শ ঘুমের ওষুধের সন্ধানে জার্মান গবেষকরা..
ঘুমের ওষুধের পক্ষে ভালো কোনো কথাই শোনা যায় না৷ এগুলো মানুষকে আসক্ত করে ফেলে এবং এটা বর্জন করার পক্ষেই সবার মত৷ কিন্তু যাঁরা ভয়াবহ অনিদ্রা রোগে ভোগেন, তাঁদের এ ধরনের ওষুধ ছাড়া বিকল্প কোনো পথ কি আছে?
অনিদ্রা বা ইনসমনিয়া রোগী অ্যানি মেরি ডয়চে ভেলেকে জানালেন, ১৯ বছর আগে এ রোগের শুরু৷ একেবারেই ঘুমাতে পারছিলেন না তিনি৷ তিনি বললেন, যাঁদের এ অসুখ নেই তাঁরা কল্পনা করতে পারবে না এটা কতটা ভয়াবহ৷
মায়ের মৃত্যুর পরই এ অসুখ শুরু হয় মেরির৷ তাঁর মনে হতে থাকে, তিনি তাঁর মায়ের শবদেহ ছুঁয়ে বসে আছেন৷ মানুষের শরীর যে এতটা শীতল হতে পারে, এটা তাঁকে ভয়ঙ্কর আঘাত করেছিল৷ ঘুমের মধ্যে একথাটা ভেবেই একরাতে তার ঘুম ভেঙে যায়৷ সেদিন আর ঘুমাতে পারেননি তিনি৷
এরপর মেরি এক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন৷ সেদিন তিনি এতটাই কষ্টে ছিলেন যে চিকিৎসকের সামনেই কেঁদে ফেলেন৷ এখন তাঁর বয়স ৬৮৷ মেরি জানালেন, এ বিষয়ে এত চিকিৎসক আছেন, কিন্তু কেউই তাঁকে সাহায্য করতে পারেননি৷
অনেক বছর পর অ্যানি মেরির পরিবার তাঁর জন্য একটা সমাধান খুঁজে পায়৷ প্রতিরাতে তিনি এখন একটি ঘুমের ওষুধের এক তৃতীয়াংশ গ্রহণ করেন৷ দশ বছর আগে এটা শুরু করেছিলেন৷ তিনি জানালেন, এছাড়া ভিন্ন কোনো পথ ছিল না৷ তাঁর মনে হয়েছিল, হয় এটা তাঁকে খেতে হবে, নয়ত তিনি মারা যাবেন৷
দুশ্চিন্তা: ঘুমের শত্রু
জার্মানির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত রবার্ট কখ ইন্সটিটিউটের মতে, জার্মানদের ২৫ ভাগই অনিদ্রা রোগে ভুগছে৷ যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেল্থ-এর সেন্টার ফর স্লিপ ডিসঅর্ডার্স রিসার্চ-এর একটি জরিপ অনুযায়ী, ১০ থেকে ১৫ ভাগ মার্কিন নাগরিক ক্রনিক ইনসমনিয়ায় ভোগেন৷
ইনসমনিয়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানসিক সমস্যার কারণে হয় বলে জানালেন মাইৎস শহরের একটি হাসপাতালের ‘স্লিপিং সেন্টার’-এর পরিচালক হান্স-গ্যুন্টার ভেস৷ তিনি জানালেন, রোগীরা ভুলে যান, কিভাবে বিশ্রাম নিতে হবে৷ এর ফলে থাইরয়েডের কার্যক্রমেও সমস্যা দেখা দিতে পারে৷ এসব রোগীদের ক্ষেত্রে প্রায়ই দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যাওয়া এবং চাকুরি ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা যায়৷
ঘুমের জন্য মস্তিষ্ককে জোর
স্বাভাবিকভাবে ঘুমানো যে কারো জন্য খুব ভালো৷ কিন্তু মেরির মতো যাঁরা কোনো সাহায্য ছাড়া ঘুমাতে পারেন না, তাঁদের জন্য গবেষকরা আদর্শ ঘুমের ওষুধ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন৷ এমংন এক ওষুধ, যার কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই৷
১৯৫০ সালে চিকিৎসকরা বুঝলেন, এসব ওষুধ যাঁরা গ্রহণ করছেন, তাঁরা এতে আসক্ত হয়ে পড়ছেন৷ এরপরই বাজারে এলো বেনজোডায়াসেপাইন৷ ভ্যালিয়াম এমনই একটি ওষুধ, যা এখন বেশ পরিচিত৷ যা মস্তিষ্কের জিএবিএ গ্রাহককে তাদের কাজে সাহায্য করে এবং মানুষকে ঘুমিয়ে পড়তে সাহায্য করে৷
এরপরও আরও একটি ওষুধ এসেছে যার নাম জেড ড্রাগস৷ যেমন জলপিডেম এবং জপিক্লোন৷ বেনজোডায়াসেপাইনের চেয়েও এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কম৷ ইনসমনিয়ার ক্ষেত্রেই এগুলোকেই এখন সবচেয়ে কার্যকরী ওষুধ হিসেবে বলা হচ্ছে৷
স্বাভাবিক ঘুম নয়
সব ধরনের ঘুমের ওষুধ, বিশেষজ্ঞরা যাদের হিপনটিক হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন, এ সবের একটা সাধারণ দিক আছে, আর সেটা হল রোগীর ঘুমের অবস্থার পরিবর্তন৷
তারা কেবল গভীর ঘুম এবং আরইএম – ঘুমের এই দুটি পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকে৷ নতুন ঘুমের ওষুধগুলোর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কম হলেও – কিছু তো অবশ্যই আছে, আর তা হলো ঘুম থেকে উঠে অবসাদগ্রস্ত হওয়া৷ এমনকি ওষুধ খাওয়ার কারণে রোগীরা মধ্যরাতে গাড়িও চালাতে পারে না৷
তবে দুই সপ্তাহের বেশি ব্যবহারের ফলে অনেক সময় এগুলোর উপর আসক্তি বেড়ে যায়, এগুলো ছাড়া আর ঘুম আসে না৷ অথবা এগুলো তেমন কাজ দেয় না৷
নতুন হিপনটিকের আশায়
ভেস অবশ্য বলছেন, ভবিষ্যতে ইনসমনিয়ায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে ডুয়েল অরেক্সিন রিসেপ্টর অ্যান্টাগনিস্ট বা ডিওআরএ৷
গবেষকরা সম্প্রতি আবিষ্কার করেছেন, নিউরোট্রান্সমিটার অরেক্সিন দেহের সার্কাডিয়ান রিদম নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মূখ্য ভূমিকা রাখে৷ দিনের বেলা অরেক্সিনের মাত্রা থাকে বেশি, যাতে সবাই জেগে থাকতে পারে৷ রাতের বেলায় অবশ্য এর মাত্রা কমে যায়, যার কারণে ঘুম আসে৷
ডিওআরএ-র অরেক্সিনের মাত্রা কমিয়ে দিলে মানুষ ঘুমাতে পারবে৷ তাই এ নিয়ে এরইমধ্যে কাজ করা শুরু করেছেন জার্মান গবেষকরা৷
ঘুমের জন্য ওষুধ নয়, দুধ……….
রাতে ঘুমানোর জন্য বিভিন্ন ধরণের ঘুমের ওষুধের কথা আমরা শুনেছি৷ বাজারে এবার এসেছে ঘুম পাড়ানি দুধ৷ এই দুধ মেলাটোনিন সমৃদ্ধ৷ রাতে শোওয়ার আগে খেলে নাকি খুব ভাল ঘুম হবে৷
জার্মানির দক্ষিণে মিউনিখ শহরের একটি কোম্পানি বাজারে এনেছে মেলাটোনিন সমৃদ্ধ দুধ৷ বলা হচ্ছে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে হালকা গরম এক গ্লাস দুধ খেলে রাতে খুব ভাল ঘুম হবে৷ আর মনে হয় ঠিক এর জন্যই অপেক্ষা করে ছিল জার্মানির হাজার হাজার মানুষ৷ কারণ, ‘রাতে ঘুম হয়নি বা খাটা-খাটনি বেশি যাচ্ছে৷ রেস্ট নেওয়ার সময় পাচ্ছি না’ – এ ধরণের অভিযোগ সারাক্ষণই শোনা যাচ্ছে৷ সেই সমস্যা সামাধানে এগিয়ে এসেছে মিউনিখের একটি কোম্পানি৷
বাভারিয়া অঞ্চলের সবুজ মাঠ, উঁচু-নিচু পাহাড় আর ফাঁকে-ফাঁকে অসংখ্য খামার – এ দৃশ্য কমবেশি সবার কাছেই পরিচিত৷ গরু চড়ে বেড়াচ্ছে, হাঁস-মুরগি ছোটাছুটি করছে – খামার বাড়িগুলোতে এ দৃশ্য দেখা স্বাভাবিক৷ অনেকেই ছুটি কাটাতে চলে যান গ্রামের এই স্নিগ্ধ-কোমল পরিবেশে৷ আর ইদানিং এখানেই হানা দিচ্ছে নানা ধরণের খাবার প্রস্তুতকারী কোম্পানি৷ এর মধ্যে একটি কোম্পানি গবেষণা করে জানিয়েছে, দুধে মেলাটোনিনের পরিমাণ বেশি থাকলে সেই দুধ পান করার পর খুব ভাল ঘুম হবে৷ প্রায় ছয় মাস ধরে চলে এই গবেষণা৷ এরপর বাজারে আসে ‘নাখট মিলশ ক্রিস্টালে’ অর্থাৎ নাইট মিল্ক ক্রিস্টাল কোম্পানির মেলাটোনিন সমৃদ্ধ দুধ৷ ইউরোপের অন্যান্য দেশেও এই দুধ রপ্তানি শুরু করে দিয়েছে জার্মানি৷ অস্ট্রিয়ার বাজারে এই দুধ পাওয়া যাচ্ছে৷ কাই ওপেল ‘নাখট মিল্শ ক্রিস্টাল’ কোম্পানির মুখপাত্র৷ তিনি জানান, ‘‘প্রতিটি প্রাণী এমনকি মানুষের মধ্যেও মেলাটোনিনের উপাদান রয়েছে৷ এই মেলাটোনিনই দিন এবং রাতের সাইকেলকে নিয়ন্ত্রণ করে৷ প্রাকৃতিক ছন্দটাকে ধরে রাখে৷”
মেলাটোনিন সমৃদ্ধ ট্যাবলেট অনেক আগে থেকেই অ্যামেরিকায় বিক্রি হচ্ছে৷ বিভিন্ন ওষুধের দোকান থেকে যে কেউই তা কিনতে পারে৷ এছাড়া মেলাটোনিন সমৃদ্ধ বিভিন্ন ধরণের সফ্ট ড্রিঙ্কও সেখানে পাওয়া যায়৷ তবে ইউরোপে মেলাটোনিন এত সহজলভ্য নয়৷ এখানে যত্রতত্র তা বিক্রি করা বৈধ নয়৷ অ্যামেরিকার ফেডারেল ড্রাগ অ্যাডমিনস্ট্রেশন নতুন করে বিষয়টি বিবেচনা করে দেখছে৷
বাস্তব সত্য হল যে সব দুধ আমরা বাজার থেকে কিনি সেগুলোতে মেলাটোনিনের পরিমাণ একেবারেই নেই৷ যদি তাই হত তাহলে দেখা যেত সকালের নাস্তার টেবিলেই মেলাটোনিন সমৃদ্ধ দুধ খেয়ে টেবিলেই ঘুমিয়ে পড়েছে সবাই৷ তাই এসব দুধ থেকে মেলাটোনিন একেবারে সরিয়ে ফেলা হয়েছে৷ রাতে পান করার জন্য দুধে মেলাটোনিনের উপাদান যোগের প্রশ্ন এখানেই এসেছে৷ আলোর সংস্পর্শে মেলাটোনিন নষ্ট হয়ে যায়৷ আলো থেকে তাই দুধ দূরে রাখতে হবে৷ কাই ওপেল আরো জানান, ‘‘গরুর দিনের বেলা প্রচুর আলো বাতাসের প্রয়োজন হয়৷ কিন্তু রাতে একেবারেই না৷ সাধারণত দেখা যায় গরুর গোয়াল ঘরেও সারারাত হালকা বাতি জ্বলছে৷ এ কারণেই দুধে মেলাটোনিনের পরিমাণ কম, মেলোটোনিনের পরিমাণ গরুর রক্তেও কম৷ আমরা যা করেছি তা হল, গোয়াল ঘর থেকে আলো একেবারে সরিয়ে নিয়েছি৷ এক ধরণের অত্যন্ত হালকা লাল আলো শুধু জ্বলছে৷ এই আলো কোনো ক্ষতি করবে না৷ মেলাটোনিন উৎপাদনে কোনো সমস্যা হবে না৷”
তবে সবাই ‘মেলাটোনিন’-এর যুক্তি গ্রহণ করতে নারাজ৷ ইংল্যান্ডের লফবোরো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্লিপ রিসার্চ সেন্টারের প্রধান জিম লোর্ন মেলাটোনিনের এই চমকপ্রদ তথ্য মেনে নিতে পারছেন না৷ তাঁর প্রশ্ন একটি গরু যদি সারারাত আলোর দিকে তাকিয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে মেলাটোনিন কীভাবে উৎপন্ন হবে? জিম সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘মেলাটোনিন ঘুমে সহায়তা করে না৷ এটা শুধু শরীরকে মনে করিয়ে দিতে পারে এখন রাত বা এখন দিন৷ এখন জেগে থাকা যায় বা এখন ঘুমাবার সময়৷ শরীরের প্রাকৃতিক ঘড়িকে সময়মত চলতে মেলাটোনিন সাহায্য করে৷ কিন্তু কোনো নিশাচর প্রাণীকে কোনো অবস্থাতেই রাতে ঘুম পাড়ানো যাবে না৷ এসব প্রাণীর মেলাটোনিন কাজ করে অন্যভাবে৷ মেলাটোনিন কীভাবে ঘুমাতে সাহায্য করবে তা আমি এখনো বুঝতে পারছি না৷”
তবে একটি কথা সত্যি তা হল অন্য সাধারণ দুধের চেয়ে মেলাটোনিন সমৃদ্ধ দুধের দাম অনেক বেশি৷ অনেকেই বলছে, ঘুমের জন্য কোনো ওষুধ বা দুধ চাই না, চাই মানসিক প্রশান্তি৷
গাড়ি চালকের ঘুম ঠেকাতে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র….
নগরীর যানজটের মধ্যে নিশ্চিন্তে আরাম করে মোটামুটি একই গতিতে গাড়ি চালানোর কোন সুযোগ হয় না কখনো৷ ফলে হয়তো ঘুম আসে না৷ কিন্তু যখন দূরের পথ৷ সোজা মহাসড়ক৷ বেশ ফাঁকা রাস্তা৷ এমন সময়ই ঘুম এসে ভিড় করে গাড়ি চালকের চোখের পাতায়৷
সোজা মহাসড়ক৷ বেশ ফাঁকা রাস্তা৷ এমন সময়ই ঘুম এসে ভিড় করে গাড়ি চালকের চোখের পাতায়৷
তবে বিজ্ঞানীরা এবার এমন ব্যবস্থা করতে যাচ্ছেন যে, চালকের চোখের পাতা মুদে আসলে সাথে সাথেই জোরেশোরে সংকেত দিয়ে উঠবে গাড়িতে থাকা যন্ত্র৷ জার্মানির ফ্রাউনহফার ইন্সটিটিউটের ডিজিটাল মিডিয়া প্রযুক্তি শাখার গবেষকরা জানালেন এমন খবর৷ মানুষের চোখের পাতার নড়াচড়ার প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখবে এমন একটি যন্ত্র তাঁরা উদ্ভাবন করেছেন৷ ফলে গাড়ি চালকের চোখের পাতা ঘুমে আচ্ছন্ন হতে গেলেই এটি সতর্ক সংকেত বেজে উঠবে৷
এই যন্ত্রটি উদ্ভাবনের পরই নিয়ে আসা হয়েছে স্টুটগার্টের এক মেলায়৷ চোখের সাথে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি প্রদর্শন করা হচ্ছে সেই মেলায়৷ তবে ঠিক এখনই গাড়ির চালকরা ব্যবহার করতে পারছেন না দুর্ঘটনা রোধে সহায়ক এই যন্ত্র৷ বরং প্রতীক্ষা করতে হবে আরো তিন মাস৷ আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে একটি গাড়িতে চালু করে এর কর্মদক্ষতা যাচাই করবেন গবেষকরা৷ পরীক্ষামূলক ব্যবহার সফল হলে আগামী বছরের শুরুতেই গাড়ি নির্মাতাদের কাছে এটি বিক্রির জন্য বাজারে নামানো হতে পারে, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করলেন ইন্সটিটিউটের মুখপাত্র পেটার হুজার৷
তিনি বলেন, এতদিন পর্যন্ত এমন কাজের জন্য যেসব যন্ত্র ব্যবহার করা হতো তার দশ ভাগের একভাগ খরচ হবে এই নতুন আইট্র্যাকারে৷ এছাড়া এটি যেকোন মডেলের গাড়িতেই স্থাপন করা যাবে৷ শুধু তাই নয়, আগের প্রচলিত ব্যবস্থায় প্রত্যেক চালকের জন্য আলাদাভাবে অনেক সময় ব্যয় করে প্রস্তুতি নিতে হতো নির্দিষ্ট ক্যামেরা সদৃশ যন্ত্র সঠিকভাবে স্থাপন ও চালু করতে৷ কিন্তু এটির জন্য চালকভেদে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে স্থাপনের প্রয়োজন পড়ছে না৷ প্রয়োজন হচ্ছে না কোন ল্যাপটপ কিংবা কম্পিউটারের৷ তিনি জানান, চালকের সহায়ক ব্যবস্থা হিসেবে এতে থাকছে চার থেকে ছয়টি ক্যামেরা যেগুলো চালকের চোখের পাতার অবস্থান এবং দৃষ্টি রেখার উপর নজর রাখবে৷ এমনকি চালক ডান কিংবা বাম দিকে দৃষ্টিপাত করলেও এটি সমানভাবে কাজ করতে পারে৷
যন্ত্রটি সেকেন্ডে ২০০টি পর্যন্ত ছবি ধারণ এবং বিশ্লেষণ করে এমন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে৷ তবে এতোটা ভালোভাবে কাজ করলেও যন্ত্রটির আকার কিন্তু বড় নয়৷ এটির আকার একটি দেয়াশলাই এর বাক্সের অর্ধেক৷ গবেষকরা আরো জানালেন, এটি যে শুধু গাড়ি চালকের কাজে লাগবে তা নয়, বরং চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে চোখে অস্ত্রোপচারের সময়ও এটি ব্যবহার করা যাবে, চোখের পাতার প্রতিটি নড়াচড়ার দিকে নজর রাখার জন্য৷ এমনকি বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপনের ঠিক কোন অংশের দিকে একজন ভোক্তা বেশি সময় ধরে দৃষ্টি ফেলছে সেটিও নির্ণয় করা সম্ভব হবে এই যন্ত্র দিয়ে৷ ফলে ভোক্তার দৃষ্টি বিবেচনা করে বিজ্ঞাপনের মান এবং পণ্যের চাহিদার বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন গবেষকরা৷
আলো জ্বালিয়ে ঘুমাবেন না, ওজন বেড়ে যাবে!…..
ঘুম ছাড়া উপায় নেই বলেই হয়তো ঘুমের পেছনে লেগে রয়েছেন বিজ্ঞানীরা৷ আবিষ্কার করছেন ঘুম নিয়ে নানা তথ্য-উপাত্ত৷ এবার বিজ্ঞানীরা বলছেন, আলো জ্বালিয়ে ঘুমালে ওজন বাড়ে৷
আলো জ্বালিয়ে ঘুমাবেন না, ওজন বেড়ে যাবে!…………….
ফলে এখন নিশ্চয়ই ঘুমানোর আগে আরেকবার ভাবতে হবে, আলো জ্বালানো নাকি নেভানো হয়েছে৷ এর ফলে যেসব দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে সেখানে আরো একটু লাভ হবে বৈকি!আলো নিভিয়ে ঘুমানোর ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে তো বটেই৷
আমেরিকার ওহাইয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ইঁদুরের উপর এই গবেষণা চালান৷ গবেষণার ফল প্রকাশিত হলো ‘প্রসিডিংস অব ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স’ শীর্ষক সাময়িকীতে৷ গবেষণায় দেখা গেছে, আট সপ্তাহ আলো জ্বালিয়ে ঘুমানোর ফলে ইঁদুরগুলোর ওজন বেড়েছে ৫০ শতাংশ৷ গবেষক দলের প্রধান লরা ফঙ্কেন বলেন, ‘‘সবগুলো ইঁদুরের কাজের মাত্রা এবং খাবারের পরিমাণ সমান রাখা হলেও আলোতে ঘুমন্ত ইঁদুরগুলো অন্যদের চেয়ে মোটা হয়ে গেছে৷”
যেসব ইঁদুরকে ১৬ ঘণ্টা দিনের আলো এবং আট ঘণ্টা মৃদু আলোতে রাখা হয়েছিল তাদের ওজন বেড়েছে ১২ গ্রাম করে৷ অন্যদিকে, যেগুলোকে ১৬ ঘণ্টা দিনের আলো এবং আট ঘণ্টা অন্ধকারে রাখা হয়েছিল তাদের ওজন বেড়েছে আট গ্রাম করে৷ এছাড়া খাবার গ্রহণের সময়সূচি যখন একই রাখা হতো তখন ওজন না বাড়লেও, এক্ষেত্রে অনিয়ম করা হলেই দেখা গেছে ওজন বেড়ে যেতে৷ ওজন বাড়ার এই প্রক্রিয়া প্রথম সপ্তাহ থেকেই লক্ষ্য করা গেছে৷ আর তা শেষ অবধি অব্যাহত ছিল৷ ফলে এটা থেকে বোঝা যায় যে, খাদ্য গ্রহণের সময়সূচির সাথেও ওজন বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে, বলেন ফঙ্কেন৷
গবেষণার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওজন বাড়ার ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, বিপাক ক্রিয়ার উপর আলোর প্রভাব রয়েছে৷ ওহাইয়ো রাজ্যের মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক ব়্যান্ডি নেলসন বলেন, ‘‘রাতে আলো জ্বালিয়ে রাখার কারণে আমাদের গবেষণার ইঁদুরগুলোকে অসময়ে খাবার গ্রহণ করতে দেখা গেছে৷” তিনি বলেন, এই পরীক্ষার ফলাফল মানুষের ক্ষেত্রেও সঠিক হলে রাতে দেরি করে খাবার গ্রহণের সাথে অতিরিক্ত মোটা হওয়ার একটা সম্পর্কও পাওয়া যেতে পারে৷
ওষুধ নয়, ঘুম পাড়াবে জুঁই অথবা বেলি ফুল….
ঘুমের ওষুধের কথা ভুলে যান৷ ছোট্ট কয়েকটা তাজা জুঁই অথবা বেলি ফুল নাকের সামনে ধরুন৷ ঘ্রাণ নিন৷ দেখুন এটি ঘুমের ওষুধের মতোই কাজ করছে৷ অন্তত জার্মানির একদল গবেষকের সেরকমই দাবি৷
‘দ্য জার্নাল অব বায়োলজিক্যাল কেমিষ্ট্রি’র অনলাইনে বলা হয়েছে, গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের যেকোনো ওষুধ কিংবা ভ্যালিয়াম যেভাবে কাজ করে জুঁই অথবা বেলি ফুলের সুগন্ধও এইকভাবে স্নায়ুতে এনে দেয় প্রশান্তি৷ যা মানুষের চোখে ঘুম নামিয়ে আনতে সাহায্য করে৷
বাজারজাত ওষুধগুলোর চেয়ে প্রাকৃতিক এই উপাদানটিই বেশি কার্যকরী বলে দাবি করছেন জার্মান গবেষকরা৷
জার্মানির ড্যুসেলডর্ফ শহরের হাইনরিস হাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ওলগা জেরগেভা ও অধ্যাপক হেলমুট হাস এবং বোখুমের রুঢ় বিশ্ববিদ্যালয় বা আরইউবি-এর গবেষকরা একযোগে এই গবেষণাটি চালান৷ গবেষকদের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন অধ্যাপক হানজ হাটে৷ তাঁরা আবিষ্কার করেছেন, ঘুমের ওষুধের যে উপাদানটি মানুষকে প্রশান্তি এনে দেয় জুঁই অথবা বেলি ফুলের সুগন্ধের মধ্যেও একই ধরণের উপাদান রয়েছে৷
[জুঁই অথবা বেলি ফুলের সুগন্ধ স্নায়ুতে এনে দেয় প্রশান্তি ]
জুঁই অথবা বেলি ফুলের সুগন্ধ স্নায়ুতে এনে দেয় প্রশান্তি
গবেষকরা এ নিয়ে বিশদ আকারে গবেষণা করেন৷ প্রায় ১০০ ধরণের সৌরভ নিয়ে মানুষ ও ইঁদুরের ওপর চালানো হয় গবেষণা৷ এরমধ্যে এমন দু’টি সৌরভ খুঁজে পান তাঁরা, যেগুলোতে এমন উপাদান রয়েছে যা কিনা বাজারে প্রচলিত ঘুমের ওষুধের মতোই শক্তিশালী৷ বিজ্ঞানীরা বিষয়টিকে এভাবে ব্যাখ্যা করেন, শ্বাস নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সুগন্ধ ফুসফুস থেকে রক্তে যায় এবং সেখান থেকে মস্তিষ্কে যায়৷ এই সুগন্ধ মস্তিষ্কে প্রশান্তি এনে চোখে ঘুম নিয়ে আসে৷
শুধু ঘুমের জন্যই নয়, স্নায়ুবিক উত্তেজনা প্রশমনের জন্যও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়৷ পশ্চিমা বিশ্বের শতকরা ২০ ভাগ মানুষ প্রতিদিন না হলেও মাঝে মাঝে ঘুমের ওষুধ খান৷ আর বিশ্বের মধ্যে এখনও পর্যন্ত বহুল প্রচলিত ঘুমের ওষুধগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে বেনজোডায়াজেপিনেস৷ এ ওষুধটি মানুষকে ধীরে ধীরে আসক্ত করে ফেলে৷ সেইসঙ্গে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা যায় বিষন্নতা, চোখে অন্ধকার দেখা, উৎকন্ঠা, মাংসপেশীর দুর্বলতা ইত্যাদি সমস্যা৷ অন্যদিকে প্রকৃতিগতভাবেই জুঁই বা বেলি ফুলের ঘুম পাড়ানোর ক্ষমতা থাকলেও এর কিন্তু কোনরকমই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই৷
সুস্থ থাকতে চাইলে ঠিক ৭ ঘন্টা ঘুমান.
ভেবে বলুনতো, আপনি দিনে কত ঘন্টা ঘুমান? পাঁচ, ছয়, সাত নাকি আট ঘন্টা৷ নাকি তার চেয়েও বেশি বা কম৷ উত্তরটা যদি হয় সাত, তাহলে একদম ঠিক আছে৷ আর তা না হলেই বিপদ৷ এমনটাই আভাস দিচ্ছে একটি গবেষণার ফলাফল৷
যুক্তরাষ্ট্রে হয়েছে গবেষণাটি৷ ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ছিলেন এর পেছনে৷ আর যে ম্যাগাজিনে গবেষণাটি ছাপা হয়েছে সেটির নাম ‘স্লিপ’ অর্থাৎ ঘুম৷ প্রায় ত্রিশ হাজার বয়স্ক মানুষের তথ্য পর্যালোচনা করে বের করা হয়েছে ফলাফল৷
কিন্তু কী আছে সেই ফলাফলে? বলা হয়েছে, সাত ঘন্টার কম বা বেশি যারা ঘুমায় তাদের বিভিন্ন ধরনের হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে৷ যারা দিনে পাঁচ ঘন্টার কম ঘুমান তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা, যারা সাত ঘন্টা ঘুমান তাদের চেয়ে দুই গুন বেশি৷
আর যারা নয় ঘন্টা বা তার বেশি সময় ঘুমান তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি, সাত ঘন্টা যারা ঘুমান তার চেয়ে দেড়গুন বেশি৷
তবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন ৬০ বছর বয়সের নিচে যারা, তারা৷ কারণ গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে, এই বয়সের লোকদের হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা, সাত ঘন্টা ঘুমানো মানুষের চেয়ে তিনগুন বেশি৷
সবচেয়ে কম বা সবচেয়ে বেশি সময় ঘুমের কারণে স্ট্রোক হবার সম্ভাবনা থাকে বলে জানা গেছে৷
তবে একই ম্যাগাজিনে আরও একটি বিষয়ে গবেষণা প্রকাশ পেয়েছে৷ তাতে বলা হয়েছে, যারা দিনের পর দিন রাতে চার ঘন্টার কম সময় ঘুমানোর সুযোগ পান তারা যদি পরে কোন সময় ৯ বা ১০ ঘন্টার মত ঘুমানোর সুযোগ পায় তাহলে সেটা বরং উপকারী হবে৷ এই গবেষণাটি করেছে যুক্তরাষ্ট্রেরই পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগ৷ ১৪২ জনের ওপর করা হয়েছে গবেষণাটি৷
ঘুম সমস্যায় বাংলাদেশের নারীরা শীর্ষে…………..
তথ্যটা জানা গেছে ২০১২ সালে প্রকাশিত একটি জরিপ থেকে৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় পরিচালিত এই জরিপে আট দেশের প্রায় ৪৪ হাজার পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সের মানুষ অংশ নিয়েছেন৷
জরিপে অংশ নেয়া বাংলাদেশের প্রায় ৪৩.৯ শতাংশ নারীর মধ্যে ঘুমের সমস্যা পাওয়া গেছে৷ অর্থাৎ, উন্নত বিশ্বে যতসংখ্যক নারী ঘুম সংক্রান্ত সমস্যায় ভোগেন বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেই সংখ্যাটা প্রায় দ্বিগুন! অবশ্য বাংলাদেশের পুরুষদের মধ্যে ঘুমের সমস্যায় ভোগার পরিমাণ নারীদের প্রায় অর্ধেক৷ সংখ্যার হিসেবে ২৩.৬ শতাংশ৷
কারণ
ঘুমের সমস্যায় ভোগার অনেকগুলো কারণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটো হলো হতাশা আর উদ্বেগ৷ বাংলাদেশের মানুষের ক্ষেত্রেও সেটা সত্য বলে জরিপে জানা গেছে৷
গবেষণার বিস্তারিত
জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় ইংল্যান্ডের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঘানা ও দক্ষিণ আফ্রিকার দুটো প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এই গবেষণাটি পরিচালনা করে৷ বাংলাদেশসহ ঘানা, তাঞ্জানিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার গ্রামাঞ্চল এবং কেনিয়ার শহরাঞ্চলের ২৪,৪৩৪ জন নারী এবং ১৯,৫০১ জন পুরুষ জরিপে অংশ নেন৷
ঘুম সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে উন্নত বিশ্বে অনেক গবেষণা হলেও উন্নয়নশীল বিশ্বের সমস্যা নিয়ে ওটাই ছিল প্রথম গবেষণা৷ আটটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের নারীদের মধ্যেই ঘুমের সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে৷ আর পুরুষদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রয়েছে তৃতীয় স্থানে৷
‘স্লিপ’ নামক জার্নালে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে৷
অনিদ্রায় একমাত্র ভরসা ঘুমের ওষুধ?.
ঘুমের ওষুধের খুব একটা সুনাম নেই৷ বলা হয় এসব বিপজ্জনক ও আসক্ত করে৷ কিন্তু অনিদ্রা যাঁদের নিত্যসঙ্গী তাঁদের কাছে ঘুমের ওষুধের দিকে হাত বাড়ানো ছাড়া আর কোনো গতি থাকে না৷ আর এরকম ঘটনা ঘটছে হামেশাই৷
আনে-মারিও একজন ভুক্তভোগী৷ ১৯ বছর আগে দেখা দেয় এই যন্ত্রণা৷ আনা মারির ভাষায়, ‘‘তা ছিল ১৯টি কষ্টকর বছর৷ অনিদ্রা যাঁদের হয়নি, তাঁরা তা বুঝবেন না৷” মায়ের মৃতদেহ ছোঁয়ার পর থেকেই শুরু হয়৷ স্মরণ করে বলেন আনে মারি৷ ‘‘আমি জানতাম না মানুষের শরীর এত ঠাণ্ডা হয়৷ এটা ছিল একটা শক৷” সারা রাত না ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেন আনা মারি৷ তারপর আরো অনেক রাত এইভাবে কাটে৷ ছোটেন ডাক্তারের কাছে৷ সেখানে অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি তিনি৷
এখন আনে মারির বয়স ৬৮৷ বাস করেন জার্মানির বন শহরের কাছে লোমার শহরে৷ সেখান থেকে এক ঘন্টার মধ্যেই প্রায় সব ডাক্তারের কাছে পৌঁছাতে পারেন তিনি৷ এইসব চিকিত্সকের কেউ তাঁকে সাহায্য করতে পারেননি৷
অবশেষে এক উপায় বের করেন তিনি৷ প্রতি রাতে চার ভাগের এক ভাগ ঘুমের ওষুধ খাওয়া শুরু করেন৷ ‘‘বছর দশেক আগে আমার মনে হয়েছিল, হয় এই ওষুধ তুমি খাও, নয় মৃত্যুবরণ করো৷ ঘুম পানাহারের মতই জরুরি”, বলেন আনে-মারি৷
অনেক সময় রোগীরা পরদিন সকালে ক্লান্তি বোধ করেন৷
অনিদ্রার কবলে অনেক মানুষ
রবার্ট কখ ইন্সটিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, জার্মানির ২৫ শতাংশ মানুষের মধ্যে অনিদ্রার লক্ষণ দেখা যায়৷ অ্যামেরিকার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ক্রনিক অনিদ্রায় ভোগেন৷ এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর স্লিপ ডিসওর্ডার রিসার্চ’৷
একটি ক্লিনিকের স্লিপিং সেন্টারের প্রধান হান্স গ্যুনটার ভিস জানান, ‘‘রোগীরা শোবার ঘরে এসেও সব চিন্তাভাবনা দূর করতে পারেন না৷ দৈনন্দিন নানা ঘটনা তাদের মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে৷” এছাড়া শারীরিক কারণেও অনিদ্রা দেখা দিতে পারে৷ যেমন থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের সমস্যাতেও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে৷
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া ঘুমের ওষুধ আছে কী?
গবেষকরা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া ঘুমের ওষুধ আবিষ্কার করার চেষ্টা করছেন৷ কয়েক দশক আগে বারবিচুরেট ঘুমের ওষুধ হিসাবে নাম করেছিল৷ কিন্তু এর উপাদান মানুষকে নির্ভরশীল করে৷ একটি দুঃখজনক ঘটনা থেকে ওষুধটির নাম ছড়িয়ে যায় বিশ্বব্যাপী৷ হলিউডের চিত্রতারকা মেরিলিন মনরো বেশি ডোজে এই ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেন৷
এরপর বাজারে আসে বেনজোডায়াজোপিন৷ এটাও মস্তিষ্কে এমন সংকেত পাঠায় যাতে ঘুম আসে৷ তবে এর উপাদান মস্তিষ্কের অন্যান্য অংশকেও প্রভাবিত করে, যেসব মানুষের অনুভূতি, নড়াচড়ার সমন্বয় ও মনমেজাজের জন্য জরুরি৷ এই ওষুধ এখনও পাওয়া যাচ্ছে৷ তবে এর চেয়েও ভালো একটি বিকল্প এসেছে বাজারে৷ এটির নাম জেড-ড্রাগ বলা হয়৷ এতে কিছু উপাদান রয়েছে, যেগুলির নাম জেড দিয়ে শুরু৷ এই ওষুধও ঘুম পাড়ায়, তবে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম৷ এখন অনিদ্রার চিকিত্সায় সাধারণত এই ওষুধও দেওয়া হয়ে থাকে৷
ভেষজ ওষুধও কাজে লাগতে পারে
এছাড়া বালড্রিয়ান বা ভ্যালেরিয়ানার মতো ভেষজ ওষুধও ঘুমের ব্যাঘাত হলে সাহায্য করতে পারে৷ তবে সমস্যাটা হালকা হলেই কেবল এই ওষুধ কাজে লাগে৷ অনিদ্রা জেঁকে বসলে উদ্ভিজ ওষুধ তেমন কাজে লাগে না৷
আধুনিক ঘুমের ওষুধে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম থাকলেও পুরোপুরি মুক্ত নয়৷ অনেক সময় রোগীরা পরদিন সকালে ক্লান্তি বোধ করেন৷ গাড়ি চালাতে পারেন না৷ এই ধরনের ওষুধ দুই সপ্তাহের বেশি নিলে পরে ওষুধ ছাড়া আর ঘুমই আসে না৷ অনেকদিন পর হয়ত কাজই করে না ঘুমের ওষুধ৷
আনে মারি জানান, তিনি ঘুমানোর জন্য সবরকম চেষ্টা করেছেন কিন্তু সফল হননি৷ এজন্য ‘সেল্ফ হেল্প গ্রুপ’-ও গড়ে তুলেছিলেন৷ কিন্তু কিছুদিন পর অংশগ্রহণকারীরা আর আসতে পারেননি৷ ‘‘দিনের পর দিন না ঘুমিয়ে সন্ধ্যার সময় খুব ক্লান্ত থাকতেন তারা৷ তাই এই আসরে আসা সম্ভব হয়নি,” জানান আনে-মারি৷
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, ঘুমের ট্যাবলেট সাময়িকভাবে নেওয়া যেতে পারে৷ কিন্তু স্থায়ী সমাধান হতে পারেনা৷ ওষুধ দিয়ে লক্ষণটা কমানো যায় কিন্তু অনিদ্রার আসল কারণ দূর করা যায় না৷
কম ঘুমের কারণে ওজন বাড়তে পারে..
ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে দিনটা যেমন ঝরঝরে হয় না কাটে নেশাচ্ছন্নভাবে, তেমনই হজমেও সমস্যা হয়৷ শরীরে অবসাদ ভর করে, শক্তিও কমে যায়৷ আর এসবই বলছে, একটি ইউরোপীয় স্বাস্থ্য সমীক্ষা৷
অ্যামেরিকান জার্নাল ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন’এ প্রকাশিত ঐ সমীক্ষার ফলাফলে প্রমাণ উল্লেখ করে দেখানো হয়েছে, কম ঘুম ওজন বাড়াতে সাহায্য করে৷ কম ঘুম শুধু যে ক্ষুধা বাড়ায় তাই নয়, ক্যালোরি ধ্বংস করে খুবই কম৷ সমীক্ষাকাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন, সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিস্টিয়ান বেনেডিক্ট৷ তিনি বললেন, যথেষ্ট ঘুম ওজন বাড়ানো প্রতিরোধ করে, সমীক্ষা থেকে তাই বের হয়ে এসেছে৷ তিনি লিখেছেন, সমীক্ষাতে আমরা দেখেছি, এক রাত যদি ভালোমত ঘুম না হয়, তাহলে সুস্থ মানুষের শরীরেও ক্লান্তি ভর করে, অবসাদ জেঁকে বসে৷”
এর আগেও বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, ঘুমের ব্যাঘাত ওজন বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত৷ শুধু তাই নয়, আরো দেখা গেছে, মানুষ যখন জেগে থাকে তখনও কম ঘুম কী ভাবে, চাপ এবং ক্ষুধার সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোনগুলোর স্বাভাবিক মাত্রাতে ব্যাঘাত ঘটায়৷
কম ঘুমের কারণে শরীরে আসলে কী ধরণের প্রভাব পড়ে তা শনাক্ত করতেই বেনেডিক্ট এবং তাঁর সহকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ জন ছাত্রের ঘুমের বিভিন্ন পর্যায় পর্যবেক্ষণ করেছেন৷ স্বল্প ঘুম, একেবারে না ঘুমানো এবং স্বাভাবিক ঘুমের কারণে কয়েকদিন শরীরের রক্তে শর্করার পরিমাণ, হরমোনের মাত্রা এবং তাদের বিপাক প্রক্রিয়ায় কী ধরণের পরিবর্তন হয় সেটা তাঁরা লক্ষ্য করেছেন৷
সেখানে দেখা গেছে, মাত্র একদিন ঘুম না হলে, পরেরদিন সকালে বিপাক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়৷ রাতে যার খুব ভালো ঘুম হয়েছে তার সাথে তুলনা করে দেখা গেছে, যার ঘুম হয়নি তার শরীরে ক্লান্তি ভর করেছে, নিশ্বাস নেওয়া বা হজমের মত ব্যাপারগুলো শতকরা কুড়িভাগ থেকে নেমে এসেছে শতকরা পাঁচ ভাগে৷
দেখা গেছে, ঘুমে ব্যাঘাত সৃষ্টির পরে সকালে একজন অল্প বয়সের পুরুষের রক্তে চিনির মাত্রা, ক্ষুধা বৃদ্ধির হরমোন ঘ্রেলিনের মাত্রা এবং চাপ বৃদ্ধির হরমোন কর্টিসলের মাত্রা অনেক বেশি৷ এর আগের কয়েকটি সমীক্ষাতে দেখা গেছে, যারা পাঁচ ঘন্টা বা তারও কম ঘুমান, খুব দ্রুত তাদের ওজন বাড়ে এবং ওজনের সঙ্গে সমর্কিত রোগ টাইপ-টু ডায়াবেটিসেও আক্রান্ত হন৷

Read More
Dilip Poddar

ডায়াবেটিস রোগীদের হার্ট অ্যাটাক।

ডায়াবেটিস রোগীদের হার্ট অ্যাটাক।
ডায়াবেটিস রোগীদের হার্ট অ্যাটাক।


ডায়াবেটিস মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো হার্ট অ্যাটাক। ডায়াবেটিস মানব দেহের প্রাচীনতম রোগগুলির মধ্যে অন্যতম। আরোটিয়াস ১৫০ খৃৃষ্টাব্দে এ রোগের নাম দেন ডায়াবেটিস, যার অর্থ সাইফন। তার মতে এ রোগে রোগীর ওজন কমে যায় ও পচনশীল ঘা হয়। ১৯০৯ সালে ডি মেয়ার অগ্ন্যাশয়ের হরমোনকে ইনসুলিন নামকরণ করেন। ডায়াবেটিস হলে ইনসুলিন তৈরি করার ক্ষমতা একেবারেই বন্ধ হয়ে যায় অথবা পর্যাপ্ত পরিমাণ ইনসুলিন তৈরিতে ব্যর্থ হয় নতুবা পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি হলেও ইনসুলিন তার কাজ করতে পারে না।

১৯৮৬ সালে মার্কুনে ঈষ্ট থেকে জৈব সংশেস্নষণ করে হিউমেন ইনসুলিন তৈরী করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। চলতি শতাব্দীর গোড়ার দিক পর্যন্ত বহু লোক মৃত্যুবরণ করেছেন এই নীরব ঘাতক ব্যাধির আক্রমণে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে যথেষ্ট তথ্য ইতিমধ্যে আবিষ্কৃত হয়েছে, ফলে ডায়াবেটিসে মৃত্যুর হার অনেক কমে গিয়েছে।

ডায়াবেটিস কিঃ গস্নুকোজ আমাদের শরীরের শক্তির মূল উৎস। শরীর ইনসুলিন নামের একটি হরমোন তৈরী করে। ইনসুলিন রক্ত থেকে অতিরিক্ত গস্নুকোজ বের করে নিয়ে শরীরের কাজে লাগাতে সাহায্য করে এবং রক্তে গস্নুকোজের মাত্রা একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় রাখে।

আমাদের রক্তে গস্নুকোজের মাত্রা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে থাকার কথা। যখন রক্তের গস্নুকোজের মাত্রা সার্বক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে বেশি থাকে তখন সে অবস্থাকে ডায়াবেটিস বলে।

আমাদের অগ্ন্যাশয়ের মধ্যে বিটা সেল নামের বিশেষ ধরনের কোষ থাকে। এই বিটা সেল থেকে ইনসুলিন নামক হরমোন তৈরী হয়। ইনসুলিন আমাদের রক্তের গস্নুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ইনসুলিন শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং কোষকে, রক্ত থেকে গস্নুকোজ নিতে সাহায্য করে। এর ফলে রক্তে গস্নুকোজের মাত্রা সব সময়ই একটি সহনশীল মাত্রায় থাকে। এমনকি খাবার খাওয়ার পরপরই রক্তে হঠাৎ করে যে গস্নুকোজ বেড়ে যায় তাও নিয়ন্ত্রণে থাকে।


ডায়বেটিস প্রধানত দু’ধরনের। টাইপ-১ ও টাইপ-২। বেশিরভাগ মানুষ টাইপ -২ ডায়াবেটিসে ভুগে থাকে।

টাইপ-১ ডায়াবেটিসে শরীরের ইনসুলিন তৈরি করার ক্ষমতা একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। টাইপ-২ ডায়াবেটিসে শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণ ইনসুলিন তৈরিতে ব্যর্থ হয় নতুবা পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি হলেও ইনসুলিন তার কাজ করতে পারে না।

টাইপ-১ ডায়াবেটিসঃ টাইপ-১ ডায়াবেটিসে শরীরের ইনসুলিন তৈরি করার ক্ষমতা একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়। ফলে রোগীর রক্তে গস্নুকোজের পরিমাণ নির্ধারিত পরিমাণ থেকে অনেক বেড়ে যায়। টাইপ -১ ডায়াবেটিস সাধারণত শিশু অবস্থায় অথবা বাল্যকালেই দেখা দেয়। ডায়াবেটিস রোগীর শতকরা ১০ থেকে ১৫ ভাগ টাইপ ১-ডায়াবেটিসে ভুগে থাকে। এ ধরনের রোগীদের ইনসুলিন ইনজেকশন দিয়ে চিকিৎসা করতে হয়। এটিকে ইনসুলিন নির্ভরশীল ডায়াবেটিস বলা হয়। এটি সাধারণত ৪০ বছরের কম বয়সের লোকদের হয়ে থাকে। এদের কিটোএসিডোসিস নামক এক প্রকার জটিলতা হতে পারে। যার সঠিক চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু হতে পারে।

টাইপ-২ ডায়াবেটিসঃ টাইপ-২ ডায়াবেটিসে শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণ ইনসুলিন তৈরিতে ব্যর্থ হয় নতুবা পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরী হলেও ইনসুলিন তার কাজ করতে পারে না। ডায়াবেটিস রোগীর শতকরা ৮৫ থেকে ৯০ ভাগ টাইপ-২ ডায়াবেটিসে ভুগে থাকে। ২০২৫ সালে নাগাদ টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ২০ থেকে ৩০ কোটি।

অনেক সময় ডায়াবেটিসের লক্ষণ মৃদু হয়ে থাকে যার ফলে এটি ধরা পড়তে অনেক সময় লাগে। এটি মধ্য বয়সে অথবা তারও পরে ধরা পড়ে। টাইপ -২ ডায়াবেটিস এটি প্রধানত বংশগত রোগ। এটিকে ইনসুলিন অনির্ভরশীল ডায়াবেটিস বলে। সাধারণত ৪০ বছরের বেশি বয়সের লোকদের এটা হয়ে থাকে। যাদের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি, শারীরিক প্ররিশ্রমের কাজ করেন না, নিকট-আত্নীয়দের ডায়াবেটিস আছে-তাদের এ ধরনের ডায়াবেটিস হয়ে থাকে। ইনসুলিন অনির্ভরশীল ডায়াবেটিস চিকিৎসায় সাধারণত ইনসুলিনের প্রয়োজন হয় না। এক্ষেত্রে খাদ্য অভ্যাসে কিছুটা পরিবর্তন, ব্যায়াম বা হাঁটাহাটি ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণে বেশি ভূমিকা রাখে। ক্ষেত্রবিশেষে খাবার ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

হার্ট এ্যাটাক কি :- হ্নদপিন্ডের রক্তনালীতে চর্বি জমে রক্তচলাচলে বাধা সৃষ্টি করে যে রোগের উৎপত্তি হয় তাকে ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ বলে। হার্টএ্যাটাক বা মায়োককার্ডিয়াল ইনফ্রাকশান এই রোগের একটি বহিঃপ্রাকাশ। হ্নদপিন্ডের রক্তনালীতে চর্বি জমে ও রক্ত জমাট বেঁধে রক্ত চলাচল একেবারে বন্ধ হলে হ্নদপিন্ডের পেশীর কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়, একে মায়োকার্ডিয়াল ইনফ্রাকশান বলা হয় । মানুষের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো এই রোগটি। যুক্তরাজ্যে এক সমীক্ষ্যায় দেখা যায় ১/৩ ভাগ পুরুষ এবং ১/৪ ভাগ মহিলা ইসকেমিক হার্ট ডিজিজে মারা যায়। ইসকেমিক হার্ট ডিজিজে হার্টএ্যাটক বা মায়োকার্ডিয়াল ইনফ্রাকশান ছাড়া ক্রনিক স্ট্যাবল এনজিনা ও আনস্ট্যাবল এনজিনা হতে পারে।

ডায়াবেটিস রোগীর হার্ট অ্যাটাক :- হার্ট অ্যাটাকের একটি প্রধান উপসর্গ বুকের মাঝখানে তীব্র ব্যাথা হওয়া । কিন্তু অনেক সময় ডায়াবেটিস রোগীর হাট অ্যাটার্ক হলেও বুকে ব্যথা অনুভব হয় না। শতকরা ২৫% ডায়াবেটিস রোগীর ব্যথাহীন বা নিরব হার্ট অ্যটাক হয়। রোগী অনেক সময় বুঝতেও পারে না সে কখন হার্ট অ্যাটক করেছেন, ফলে হঠাৎ মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকে। ডায়াবেটিস রোগীর নীরব মৃত্যু তাহলে হার্ট অ্যাটাক থেকে হতে পারে। তবে কিছু উপসর্গ থেকে ধারণা করা যায়।

হঠাৎ করে প্রচুর ঘেমে যাওয়া, শরীর দুর্বল লাগা, শ্বাস কষ্ট হওয়া অথবা রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়া ডায়াবেটিসের জটিলতায়ও এধরনের সমস্যা হতে পারে। ইসিজি করলেই হার্ট অ্যাটাকে বুঝা যায়। ব্যথাহীন হার্ট অ্যাটাকের রোগীরা অনেক পরে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসা শুরু হতে বিলম্ব হয়।

ডায়াবেটিস হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম প্রধান কারণঃ হার্ট অ্যাটাকের পাঁচটি প্রধান কারণ হলো ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে চর্বির আধিক্য ও পজেটিভ ফেমিলি হিসট্রি। ডায়াবেটিস রোগীর ৩ থেকে ৫গুণ হার্ট অ্যাটাকের সম্ভবনা বেশী থাকে। ডায়াবেটিস থাকলে মহিলাদের হার্ট অ্যাটাকের প্রিমেনুপোজার প্রোটেকশান থাকে না। ডায়াবেটিসের ফলে রক্তনালীতে চর্বি জমে রক্তনালী সরু করে, যার জন্যে হার্টের রক্ত চলাচলে বাধাসৃষ্টি হয়।

অনেক দিনের ডায়াবেটিস, বয়সে বেশী, সিস্টোলিক উচ্চ রক্তচাপ, হাইপার ইনসুলিনিমিয়া, রক্তে ট্রাইগিস্নসারাইডের পরিমাণ বেশি আর এইচডিএল বা ভাল কোলেস্টেরেলের পরিমান কম থাকলে, প্রোটিনিউরিয়া ইত্যাদি থাকলে ডায়াবেটিস রোগিদের হার্ট অ্যটাক হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে। রক্তে সুগারের পরিমাণ বেশী থাকলে তাদের রক্তে অণুচক্রিকা খুব তাড়াতাড়ি রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। এর ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের করোনারী রক্তনালী বন্ধজনিত হ্নদরোগ বেশী হয়।

৭৫% ডায়াবেটিস রোগির হার্ট অ্যাটাকের সময় বুুকে ব্যথা হয়। শেষ রাত ও সকাল ৯টার আগ পর্যন্ত হার্ট অ্যাটাকের হার অনেক বেশী। তাই শেষ রাতে বা ভোরের সময়কার বুকে ব্যথাকে অবহেলা করা ঠিক নয়।

হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধের উপায়ঃ হার্ট অ্যাটাকের জন্য কিছু কারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা দায়ী। এগুলো এড়িয়ে চলতে পারলে হার্ট অ্যাটাক অনেকাংশে প্রতিরোধ করা যায়। যেমনঃ

ধূমপান সম্পূর্ণ বর্জন করুন। সাদা পাতা, জর্দা, নস্যি ইত্যাদি পরিহার করুন। যারা ধূমপান করেন, ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করা যায় না। নিজের ইচ্ছা শক্তিকে প্রবল করুন এবং এখনই ধূমপান একেবারে ছেড়ে দিন।
যারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, নিয়মিত ওষুধ সেবন করুন ও রক্তচাপ পরীক্ষা করাবেন। অনেকে উচ্চ রক্তচাপ কমে গেলে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করেন। পুনরায় রক্তচাপ বেড়ে গেলে ওষুধ খেয়ে থাকেন। এ ধরনের অনিয়মিত ওষুধ সেবন ও রক্তচাপ উঠানামা হার্ট অ্যাটাক হতে সহায়তা করে্‌। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রেণে রাখবেন।
যাদের ডায়াবেটিস আছে, নিয়মিত ওষুধ সেবন করবেন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। যাদের বয়স ৪০-এর বেশি এবং জানেন না ডায়াবেটিস আছে কিনা, তারা রক্ত পরীক্ষা করে জেনে নিন ডায়াবেটিস আছে কিনা।
হাইপারলিপিডেমিয়া বা রক্তে ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলের আধিক্য থাকলে, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চর্বি যাতীয় খাবার কম খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন কমানো এবং ক্ষেত্রবিশেষে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে রক্তের কোলেস্টেরল স্বাভাবিক মাত্রায় নিয়ে আসতে হবে।
মদ্যপান হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয় তাই মদ্যপান পরিহার করতে হবে।
জন্ম নিয়ন্ত্রণের বড়ি হার্ট অ্যাটাকের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। জন্ম নিয়ন্ত্রণের বড়ি ক্ষেত্রবিশেষে পরিহার করে অন্য পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে।
ওজন ঠিকা রাখা। বাড়তি ওজন অবশ্যই কমাতে হবে। ওজন কমানোর জন্য মিষ্টি খাবার ও চর্বিযুক্ত খাবার বাদ দিয়ে খাবার গ্রহণ করতে হবে।
শরীরের ওজন স্বাভাবিক রাখার মাত্রা হলো বিএমআই ১৮•৫-২৪•৯ কেজি/মি২ মধ্যে রাখা। আর কোমরের ব্যাস পুরুষের ক্ষেত্রে ৪০ ইঞ্চি বা তার কম এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ৩৫ ইঞ্চি বা তার কম রাখতে হবে।
পরিমিত ব্যায়াম ও কায়িক পরিশ্রম করতে হবে। কমপক্ষে দৈনিক ৩০ থেকে ৬০ মিনিট করে সপ্তাহে ৩-৪ বার হাটা, জগিং, সাইকেল চালানো অথবা অন্যান্য মুক্ত বাতাসে ব্যায়াম করা যেতে পারে। উত্তম হলো সপ্তাহে প্রতিদিন এ পরিমাণ ব্যায়াম করা।
হাইরিক্স গ্রম্নপ রোগীদের নিয়মিত মেডিকেল চেকআপ করা।
হার্টের জন্য সহনীয় খাবার খাওয়া যেমন- লবণ কম খাওয়া, চর্বি জাতীয় খাবার কম খাওয়া, শাক-সবজি ও ফলমূল বেশী খাওয়া।
নিয়মিত ঘুমানো, মানসিক দুঃচিন্তা না করা, হঠাৎ উত্তেজিত না হওয়া।
দুশ্চিন্তামুক্ত, সুন্দর ও সাধারণ জীবন যাপন করুন। এতে হার্ট অ্যাটাকের হাত থেকে অনেকাংশে রক্ষা পাওয়া যাবে।

Read More
Dilip Poddar

যে লক্ষ্মণগুলি বুঝিয়ে দেবে আপনার হার্ট অ্যাটাক হতে পারে, জেনে নিন

যে লযে লক্ষ্মণগুলি বুঝিয়ে দেবে আপনার হার্ট অ্যাটাক হতে পারে, জেনে নিনক্ষ্মণগুলি 
যে লক্ষ্মণগুলি বুঝিয়ে দেবে আপনার হার্ট অ্যাটাক হতে পারে, জেনে নিন

ধুনিক কালের জেট গতিতে ছুটে চলা জীবনে হার্ট অ্যাটাকের উদাহরণ বহুলাংশে বেড়েছে। আগে একটা নির্দিষ্ট বয়সের উপর মানুষ এ ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করতেন। কিন্তু এখন আর বয়সের কোনও গণ্ডি নেই। প্রতিযোগিতার বাজারে অত্যধিক মানসিক চাপ যে কোনও বয়সের ক্ষেত্রে বাড়িয়ে দিচ্ছে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা। তবে একটু আগে থেকে সচেতন হলে, সাবধানতা অবলম্বন করা সহজ হয়।
তাই আর দেরি না করে এখনই জেনে নিন, কোন উপসর্গগুলি দেখলে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনারও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে-  
১) হঠাৎ করেই যদি আপনি অত্যধিক ঘামতে থাকেন।
২) হঠাৎ করেই হজমে গন্ডগোল। আর তার থেকে বমি। অথচ এমন কিছু খাননি যাতে ফুড পয়েজনিং হতে পারে।
৩) খিদে কমে যাওয়া। খাওয়ার অনীহা।
৪) মাড়িতে, চোয়ালে ব্যথা। কথা জড়িয়ে যাচ্ছে।
৫) মাঝে মাঝেই ব্ল্যাক আউট হয়ে যাওয়া, জ্ঞান হারিয়ে ফেলা।
৬) সেক্সে অনীহা। পুরুষাঙ্গে শিথিলতা।
৭) অনিয়মিত ঘুম। ডাক্তারি পরিভাষায় যাকে বলে অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া (OSA)। রক্তচাপ বাড়িয়ে তোলে। হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বাড়ায়।
বাঁচার উপায়
১) বার্ষিক হেল্থ চেক-আপ করান।
২) নিয়মিত ৩০ মিনিট করে যোগাসন করুন।
৩) রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
৪) ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস ত্যাগ করুন।
Read More
Dilip Poddar

শরীরের অনাবশ্যক মেদ ঝরানোর সহজ টিপস

শরীরের অনাবশ্যক মেদ ঝরানোর সহজ টিপস
শরীরের অনাবশ্যক মেদ ঝরানোর সহজ টিপস



মোটা হয়ে যাচ্ছেন। ডায়েট করেও কাজ হচ্ছে না। ডায়েট না করেই শরীরের অনাবশ্যক মেদ ঝরানোর কিছু সহজ টিপস আজকের জানকারিতে।
লাইফস্টাইলের ডিজিজের সঙ্গেই এখন জুড়ে গেছে ওবেসিটি সমস্যা। শরীরে অনাবশ্যক মেদ নিয়ে জেরবার অনেকেই। নিজেকে নির্মেদ রাখতে অনেকেই আশ্রয় নেন ডায়েটের। খাওয়া দাওয়া কমিয়ে ফেলে শুরু হয় মেদ ঝরানোর সাধ্য সাধনা। নতুন চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, ডায়েট না করেই ওজন কমানো যায়। ঝরিয়ে ফেলা যায় শরীরের বাড়তি মেদ।
কিন্তু কীভাবে?
চিবিয়ে খাওয়ার সময় বাড়ান
চিকিত্‍সকেরা বলছেন বেশিক্ষণ চিবিয়ে খেলে খাদ্য থেকে শরীরে ক্যালরির পরিমাণ কম যায়। খাদ্য পরিপাকও ভাল হয় এতে। ভাত,রুটি খাওয়ার জন্য আধঘণ্টা সময় দিন।
ব্রেকফাস্ট মাস্ট
খাদ্য তালিকায় ব্রেকফাস্ট রাখতেই হবে।  দিনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ খাবার ব্রেকফাস্ট না করা  মানেই দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকা। এতে  শরীরের হজমের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
যা খাচ্ছেন তাতেই মন দিন
খাবার খাওয়ার সময় কেউ  টিভি দেখেন। কেউ  বই পড়েন। এরফলে কী পরিমাণ খাবার আপনি খাচ্ছেন তা সম্পর্কে খেয়াল থাকে না। মন শুধু খাবারেই দিন। ডায়েটে কাজ দেবে।
এক রান্না বারবার গরম করবেন না
এক রান্না বারবার  গরম করলেই তার খাদ্যগুণ কমে যায়। মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করলেও খাদ্যগুণ কমে যায়।
ভারি খাবারের আগে ফল খান
লাঞ্চ বা ডিনারের ৩০ মিনিট আগে ফল খান। ফল পরিপাকে সাহায্য করে।খাবার আগে ফল শরীরের ওজন কমাতে দারুন সাহায্য করে।
বার বার খাবার খান
একবারে পেট ভর্তি না করে, কিছুটা খালি পেট রাখুন। দু ঘণ্টা বা তিন ঘণ্টার ব্যবধানে খাবার খান। এতে পরিপাক ক্রিয়া বাড়ে। খাবার হজম হয় ভাল। 
৮টার মধ্যে রাতের খাওয়া সারুন
বেশি রাতে খাবার খাওয়ার অভ্যাস ছাড়তে হবে। চেষ্টা করুন রাত আটটার মধ্যেই রাতের খাওয়া সেরে ফেলতে।
খাবার ১৫মিনিট আগে জল খান
অনেকেরই অভ্যাস রয়েছে খাবার খেতে খেতেই জল খাওয়ার। খাবার খাওয়ার মাঝখানে জল খাওয়ার অভ্যাস পরিপাকে সমস্যা তৈরি করে। তৈরি হয় অ্যাসিডিটি। যদি খুবই জল খাওয়ার প্রয়োজন হয় তবে অল্প জল খান,শুধু গলা ভেজানোর মত।
এই কয়েকটি নিয়ম মানলেই ডায়েট ছাড়াই আপনি শরীর ঝরঝরে রাখতে পারবেন। শরীরে জমবে না বাড়তি মেদ।
Read More

১২ জুলাই ২০১৬

Dilip Poddar

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সুখবর বিশেষ খাদ্য-নিয়ন্ত্রণে টাইপ ২ সম্পূর্ণ আরোগ্য সম্ভব।




ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সুখবর বিশেষ খাদ্য-নিয়ন্ত্রণে টাইপ ২ সম্পূর্ণ আরোগ্য সম্ভব।





Bowl-of-Salad newdisa

ডায়াবেটিস একটি যাবৎজীবন রোগ, এ-ধারণাকে উল্টে দিয়ে ব্রিটেইনে একটি গবেষণার ফল দেখাচ্ছে যে, দু’মাস ধরে বিশেষ খাদ্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা সম্ভব। শুক্রবার আমেরিকান ডায়াবেটিস এসৌসিয়েশনের কনফারেন্সে উপস্থাপিত ইংল্যান্ডের নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল উল্লেখ করে উপরোক্ত দাবীটি করেন।
উল্লেখ্য, সরকারী হিসাব-মতে যুক্তরাজ্যে প্রায় আড়াই মিলিয়ন ডায়েবেটিস রোগী সনাক্ত করা আছে, যার মধ্যে সিংহভাগই হচ্ছেন টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রন্ত এবং এতোকাল পর্যন্ত ধারণা করা হতো এটি একটি যাবৎজীবন রোগ, যা নিয়ন্ত্রণ করা হলেও সম্পূর্ণ সারানো সম্ভব নয়।
কিন্তু নিউক্যাসলের এ-গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, কোনো ওষুধ ব্যবহার করে নয়, বরং খাদ্য-নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এ-রোগ থেকে পূর্ণ-মুক্তিলাভ করা সম্ভব।
‘ডায়েবেটিস ইউকে’র আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত এ-গবেষণায় ডায়েবেটিসগ্রস্ত ১১ ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদেরকে দু’মাস যাবৎ প্রতিদিনের গৃহীত খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করে ৬০০ ক্যালোরীতে নামিয়ে আনা হয়। তিন মাস পর দেখা যায় ১১ জনের মধ্যে সাতজন ডায়াবেটিস থেকে মুক্তিলাভ করেছেন।
গবেষণার পরিচালক নিউক্যাসেল ইউনিভার্সিটির প্রোফেসর রয় টেইলর বলেন, ‘টাইপ-২ ডায়াবেটিস সক্রান্ত আমাদের ধারণায় এটি একটি মৌলিক পরিবর্তন। নতুন করে যাদেরকে ডায়াবেটিসগ্রস্ত বলে শনাক্ত করা হবে, তাদের কাছে আমরা রোগটি কীভাবে ব্যাখ্যা করবো, এ-গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলের কারণে তা সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হবে ’।
তিনি বলেন, ‘আগে যেখানে বিশ্বাস করা হতো টাইপ-২ ডায়াবেটিস যার আছে, তা তার জীবনভরই থাকবে এবং অনড়ভাবে খারাপের দিকে যাবে। কিন্তু আমরা দেখিয়েছি যে আমরা অবস্থাকে উল্টাতে পারি’।
উল্লেখ্য, দু’প্রকারের ডায়াবেটিসের মধ্যে টাইপ-২ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে দেখা দেয় রক্তে অত্যধিক গ্লুকৌজের কারণে। আর টাইপ-১ দেখা যায় সচরাচর শিশুদের মধ্যে, যাদের দেহ খাদ্যকে শক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ইনস্যুলিন তৈরী করতে পারে না বলে। তাই এদের প্রতিদিন ইনস্যুলিন ইঞ্জেকশনের দরকার হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, ডায়েট ড্রিংক ও অ-শ্বেতসার সব্জি সমন্বিত চরম লঘু-ক্যালোরির খাদ্য প্যানক্রিয়াসে আটকে থাকা চর্বিকে সরিয়ে পুনরায় ইনস্যুলিন তৈরী জন্য শরীরকে সক্রিয় করে।
এ-গবেষণায় একটি চিকিৎসক দলের তত্ত্বাবধানে যে ১১ রোগীর উপর বিশেষ খাদ্য-নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করা হয়, তাদের মধ্যে পরিবর্তন হয় কি-না বুঝার জন্য নিয়ন্ত্রণ-বহির্ভুত সমান সংখ্যক ও সম-রোগের তুলনা-দল ব্যবহার করা হয়।
মাত্র এক সপ্তাহ পর দেখা যায়, বিশেষ খাদ্য-নিয়ন্ত্রণে থাকা রোগীদের সকালের নাস্তাপূর্ব রক্ত-পরীক্ষায় সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে এসেছে। এ-রোগীদের উপর এমআরআই স্ক্যান করে দেখা যায় যে, প্যানক্রিয়াসে চর্বি স্বাভাবিক মাত্রা ফিরে এসেছে। এবং প্যানক্রিয়াস ইনস্যুলিন তৈরী ক্ষমতা ফিরে পেয়েছে।
এভাবে বিশেষ খাদ্য নিয়ন্ত্রণের আট সপ্তাহ পূর্ণ হবার পর অংশগ্রহণকারীরা তাদের স্বাভাবিক খাদ্য ফিরে যান এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্য ও পরিমাণ সম্পর্কে পরামর্শ লাভ করেন।
ডায়াবেটিস ইউকে'র ডাইরেক্টর অফ রিসার্চ ইয়ান ফ্রেইম বলেন, ডাক্তারের পরামর্শ ও সাহায্য ছাড়া এ-রকম খাদ্য-নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করা উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা এ-গবেষণার ফলাফলকে স্বাগত জানাই, কারণ এটি দেখিয়েছে যে টাইপ-২ ডায়াবেটিস উল্টানো সম্ভবও যা কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়া অস্ত্রোপচারের মতো।’
তবে তিনি বলেন, ‘যা’হোক, এই খাদ্য-নিয়ন্ত্রণ সহজ কর্ম নয় এবং ডায়াবেটিস ইউকে কঠোর সুপারিশ করে চিকিৎসকদের তত্ত্ববধান ছাড়া এটি করা উচিত নয়।’
Read More

২৮ জুন ২০১৬

Dilip Poddar

সকালে খালিপেটে জল পানের উপকারিতা।



সকালে খালিপেটে জল পানের উপকারিতা।


আমাদের সকলকে জানা দরকার

সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে জল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভাল৷ প্রতিদিন সকালে অন্তত চার গ্লাস জল খাওয়া উচিত৷ প্রথম দিকে এটা অনেক বেশি মনে হলেও কিছুদিন এভাবে জল খেলে বিষয়টি সহজেই আয়ত্ত হয়ে যায় এবং উপকারিতাও টের পাওয়া যায়৷ সকালে জল খাওয়ার পর অল্প কিছুক্ষণ অন্য কিছু না খাওয়াই ভাল৷ এ উপায়ের কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই এবং এটি পরিপাক ক্রিয়ার জন্য ভীষণ উপকারি৷ কিন্তু কিভাবে উপকারে আসে এব এর সুফল কি হা হয়তো অনেকেই জানা নেই৷ অল্প কিছু বিষয় মেনে চললেই সকালে খালি পেটে জল খেয়ে সুস্থ থাকার পথে একধাপ এগিয়ে থাকা যায়৷ সকালে খালি পেটে জল কেবল পাকস্থলী পরিষ্কারই নয় আমাদের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে৷ প্রথমত, এ অভ্যাস মলাশয়কে ঠিকঠাক ও সচল রাখতে সাহায্য করে৷ পরিপাক ক্রিয়া থেকে সঠিক ভাবে নানা পুষ্টি উপাদান গ্রহণে শরীরকে সাহায্য করে৷ ভাল হজমশক্তি আপনা থেকেই অনেক স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে উপকারে আসে৷ দ্বিতীয়ত, পর্যাপ্ত জল ত্বক উজ্জ্বল ও সুন্দর রাখে৷ রক্ত থেকে টক্সিন ও বিভিন্ন বিষাক্ত উপাদান দূর করতে সাহায্য করে জল৷ শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এটি৷ এছাড়াও জল নতুন রক্তকোষ এবং মাসল সেল জন্মানোর প্রক্রিয়াতেও সাহায্য করে৷ ওজন কমিয়ে রাখতেও উপকারি পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান৷
এ বিশয়ে আরো জানতে কমেন্ট করুন।

Read More

২৬ জুন ২০১৬

Dilip Poddar

চুল পড়ে কি কি কারনে? জেনে নিন।



Hair Loss
ক্লান্তি, অবসাদ, ভুল ডায়েটসহ বিভিন্ন কারণে খুব কম বয়সেই চুল পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিন গড়ে মানুষের একশোটির মতো চুল পড়ার কথা বলে থাকেন। কিন্তু এর চেয়ে বেশি পড়লে সেটি চিন্তার কারণ হতে পারে।

নিউদিসা
অতিরিক্ত চুল পড় লক্ষণ দেখা দিলে আগে থেকেই সতর্ক হতে হবে। শুরু থেকেই যত্ন না নিলে কিন্তু মাথায় টাক পড়তে বেশি সময় লাগবে না। সঠিক কারণগুলি জানা থাকলে তবেই আপনি চুল পড়ার সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন। এবার জেনে নেয়া যাক, কি কি কারণে আপনি চুল পড়া সমস্যায় ভুগতে পারেন।


নিউদিসা
চুল পড়ছে, জেনে নিন কি কি কারণে চুল পড়ে?
* ক্লান্তি ধীরে ধীরে আমাদের শরীরের নানা ক্ষতি করে। চুল পড়াতেও অনুঘটক হিসাবে কাজ করে শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি।

* মাতৃত্বের কারণে অনেক নারীরই চুল পড়ার সমস্যায় ভোগেন। যদিও বেশিরভাগ মায়েদের ক্ষেত্রেই সন্তান জন্মের তিনমাস পর মাথায় ফের চুল গজায়। তবে কারো কারো সমস্যা হলে চিকিত্সকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

* শরীরে ভিটামিন এ-র অভাব হলে তা মাথার চুল ঝরতে শুরু করে।

* প্রোটিন শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। শরীরে প্রোটিনের অভাব হলেই চুল পড়ার সমস্যা হয়।

* অনেকে বংশগতভাবে চুল পড়ার শিকার হন। তবে তেমন শতাংশে অনেক কম।

* হরমোনের কারণে অনেকের হরমোনজনিত কারণে কমবয়সে চুল পড়ে যায়।

* শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা হয়। চুল পড়া ছাড়াও চামড়া খসখসে হওয়া, উজ্জ্বলতা হারানো, দুর্বলতা, মাথাধরা ইত্যাদি সমস্যা হয়।

* থাইরয়েডের সমস্যা হলে চুল পড়ার পাশাপাশি মাংসপেশিতে টান, শরীরের ওজন বেড়ে যায়।

* ভিটামিন বি-র অভাবেও চুল পড়তে পারে। শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি কমাতে ডিম, শাক-সবজি ও মাছ খেতে হবে প্রচুর পরিমাণে।

* বেশিমাত্রায় শরীরচর্চা ও ডায়েট কন্ট্রোল করাও চুল পড়ায় ইন্ধন যোগায়।

* মেডিকেসন চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া অভ্যাস করলে, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় চুল পড়ে যায়।
আরো অনেকে খুজেছে
ন্যারা; মাথা ন্যারা করলে;

Read More

২৩ জুন ২০১৬

Dilip Poddar

লিভার পরিস্কার করতে যেসমস্ত খাবার খাবেন।





লিভার পরিস্কার,খাবার,


লিভার শরীরের সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি বিপাক ও হজম প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। লিভার হিমোগ্লোবিন মলিকিউল, ইনসুলিন এবং অন্যান্য হরমোনকে ভাঙতে সাহায্য করে। এটি পুরোনো লোহিত রক্তকণিকাকে ভাঙে, রক্তকে বিশুদ্ধ করে।

লিভার বিভিন্ন কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লিভার ভালো না থাকলে নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে। তাই লিভারের যত্ন নেওয়া জরুরি এবং বিষাক্ত পদার্থ থেকে লিভারকে পরিষ্কার করাও জরুরি। কিছু ঘরোয়া খাবার রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে থাকা কিছু বিশেষ উপাদান লিভার থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করে থাকে। বোল্ডস্কাই ওয়েবসাইটের স্বাস্থ্য বিভাগে জানানো হয়েছে বিস্তারিত।

রসুন লিভারকে পরিষ্কার করার জন্য একটি ভালো উপাদান। এর মধ্যে থাকা এলিসিন ও সেলেনিয়াম শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করে।

লিভার পরিস্কার,খাবার,


জলপাইয়ের তেল:-
জলপাইয়ের তেল এবং ফ্ল্যাক্সিড অয়েল লিভারের বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। এতে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর হয়।

সবুজ শাকসবজি:-
সবুজ শাকসবজির মধ্যে রয়েছে ক্লোরোফিল (chlorophyll)। এটি রক্ত স্রোত থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করে। এটি শরীরের মধ্যে থাকা ধাতু, প্র্যাসটিসাইড এবং রাসায়নিক পদার্থকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়।



গ্রিন টি:-
গ্রিন টির মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি লিভার থেকে চর্বি দূর করতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভার থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করার সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো, প্রতিদিন গ্রিন টি খাওয়া।

Read More
Dilip Poddar

ডায়াবেটিস থাকলে কিভাবে মিস্টি খাওয়া বন্ধ করবেন।





ডায়েবেটিস,মিস্টি, হৃদ্রোগ, স্থূলতা





ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ, স্থূলতা ইত্যাদি সমস্যা থাকলেও মিষ্টি দেখলে লোভ সামলানো দায়। কিন্তু সুস্থ থাকতে চাইলে মিষ্টি খাবার খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতেই হবে।

জেনে নিন কয়েকটি কৌশল:
* সরল চিনি সহজে রক্তে মিশে যায়। সেগুলো যতটা সম্ভব, একটু একটু করে বাদ দিন। এতে আপনার মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে প্রস্তুত হয়ে উঠবে।

* দুধ, টক দই বা দুগ্ধজাত খাবারগুলো বেশি বেশি খান। এতে আপনার মস্তিষ্কের তৃপ্তিকেন্দ্র উজ্জীবিত হবে। খিদে বা বেশি খাওয়ার ইচ্ছে দূর হবে।

* হঠাৎ মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করলে একটু বাদাম, ফল বা শুকনো ফল, চুইংগাম ইত্যাদি চিবোতে শুরু করবেন। অথবা চট করে খানিকটা হেঁটে আসুন বা মনোনিবেশ করুন কোনো শারীরিক পরিশ্রমের কাজে। অনেকেরই মূল খাবারের পর মিষ্টি ডেজার্ট খান, সেটা ধীরে ধীরে ফলমূল বা দইজাতীয় ডেজার্টে রূপান্তরিত করুন।

* মানসিক চাপে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে বাড়ে। সেই চাপ মোকাবিলার জন্য শরীরচর্চা করুন বা গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, যোগব্যায়াম, শিথিলায়ন করুন।

* বেশি খিদে পেলে শরীর শর্করা বা চিনির জন্য ছটফট করে। তাই বেশি খিদে লাগতে দেবেন না। দুটো মূল খাবারের মাঝখানে হালকা নাশতা করবেন। খাবারে বড় ব্যবধান নেবেন না।

* নিজেকে বঞ্চিত ভাববেন না। নিষেধ থাকলেও মাসে একবার একটা মিষ্টি খাওয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন। সেটা যেন ১৫০ ক্যালরির বেশি না হয়।

Read More
Dilip Poddar

ডায়েবেটিস থেকে বাচার উপায়গুলো দেখে নিন।


ডায়েবেটিস, ডায়েবেটিস সারার উপায়

ডায়েবেটিস এখন একটি কমন রোগ হয়ে দাড়িয়েছে।বুড়ো থেকে যুবক সবাই এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে ।কিন্তু ডায়াবেটিসের সরাসরি নিরাময় না থাকায় এতে আক্রান্ত হলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। তবে কিছু উপায় রয়েছে যা আগে থেকে পালন করলে ডায়াবেটিস দূরে রাখা যায়। এ লেখায় রয়েছে ডায়াবেটিস সচেতনতার তেমন কিছু উপায়। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।ডায়াবেটিস যেনো এখন একটা কমন রোগ হহে দারিয়েছে। বুড়ো থেকে তরুণ সবাই আক্রান্ত হতে পারে ডায়েবেটিসে


ডায়েবেটিস, ডায়েবেটিস সারার উপায়

১. ডায়েবেটিসকে জানুন
শরীরের ইনসুলিনের ভারসাম্যহীনতায় রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিক হয়ে ডায়েবেটিসের সৃষ্টি হয়। সময় থাকতেই ডায়েবেটিস সম্পর্কে জেনে রাখা ভালো। এতে আগে থেকেই রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলা যায়।

২. খাবারের পরিমাণ কমান
মাত্রাতিরিক্ত খাবার খাওয়া ডায়েবেটিসের অন্যতম কারণ। এ কারণে খাবারের পরিমাণ কমানো উচিত আগেভাগেই। খাবার খাওয়া কমানোর জন্য ছোট ছোট প্লেটে অল্প করে খাবার নিতে পারেন। এছাড়া খাবার খাওয়ার আগে এক গ্লাস পানি খেয়ে নিলেও তাতে খাবারের পরিমাণ কমতে পারে।

৩. শারীরিক অনুশীলন করুন
আপনি যদি নিয়মিত শারীরিক অনুশীলন করেন তাহলে তা নানাভাবে আপনার স্বাস্থ্যের উপকার করবে। বিশেষ করে দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন রোগ দূরে রাখায় এর ভূমিকা রয়েছে। এতে ডায়েবেটিসের মতো রোগও দূরে থাকবে।


ডায়েবেটিস, ডায়েবেটিস সারার উপায়

৪. ওজন কমান
শরীরের ওজন যদি বেশি বেড়ে যায় তাহলে তা ডায়াবেটিসকে ডেকে আনতে পারে। তাই দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণ ডায়েবেটিস প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৫. লাল আটার খাবার
ধবধবে সাদা আটা-ময়দা বাদ দিয়ে লাল আটার তৈরি রুটি ও অন্যান্য খাবার খান। এটি আপনার ডায়েবেটিসের ঝুঁকি কমাবে।

৬. সকালের নাস্তা গুরুত্ব দিন
সকালের নাস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাবার। এটি কখনোই বাদ দেওয়া ঠিক নয়। সকালের নাস্তায় প্রোটিন যুক্ত করলে তা সারাদিনের ক্ষুধা কমায়। এতে শরীর যেমন সুস্থ থাকে তেমন ডায়েবেটিসও দূরে থাকে।

৭. ফ্যাটযুক্ত খাবার বাদ দিন
ফাস্ট ফুড দোকানের জাংক খাবার ও অন্যান্য অস্বাস্থ্যকর খাবারে উচ্চমাত্রায় স্যাচুরেটেড ফ্যাট রয়েছে, যা আপনার রক্তে ক্ষতিকর কোলস্টেরল বাড়িয়ে দিতে পারে। এটি রক্তের শর্করার মাত্রাও বাড়ায়। তাই এসব খাবার বাদ দিতে হবে।

৮. মিষ্টি পানীয় বাদ দিন
তেষ্টা পেলেই মিষ্টি পানীয় বা কোমল পানীয় পান করার অভ্যাস বাদ দিন। মূলত যে কোনো মিষ্টি পানীয়ই ক্ষতিকর। তাই এসব পানীয় সম্পূর্ণ ত্যাগ করুন।



ডায়েবেটিস, ডায়েবেটিস সারার উপায়

৯. স্বাস্থ্যকর খাবার খান
আপনি যদি বিকালের ক্ষুধা নিবৃত্ত করার জন্য অস্বাস্থ্যকর পিজা বা ফাস্ট ফুড বাদ দিয়ে তাজা ফলমূল কিংবা সালাদ খেতে পারেন তাহলে তা ডায়েবেটিস থেকে আপনাকে রক্ষায় সহায়তা করবে।

১০. সবজি খান
অনেকেই সবজি খেতে মোটেই আগ্রহী থাকেন না। যদিও সবজি আপনার বহু উপকার করতে পারে। তাই প্রতিদিন আপনার খাদ্যতালিকায় রাখুন পর্যাপ্ত সবজি। ডায়েবেটিস, ডায়েবেটিস সারার উপায়


১১. মানসিক চাপমুক্ত থাকুন
মাত্রাতিরিক্ত মানসিক চাপ আপনার রক্তের শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। এ কারণে মানসিক চাপ থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। প্রয়োজনে ইয়োগা, মেডিটেশন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন করুন।

১২. ভালোভাবে ঘুমান
রাতে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমান। এতে আপনার দেহের ওপর চাপ কমবে এবং ডায়েবেটিস সহ বিভিন্ন রোগ দূরে থাকবে। ঘুমের অভাবে দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ক্ষতি হয়।

১৩. আঁশযুক্ত খাবার খান
যেসব শাক-সবজি ও খাবারে প্রচুর আঁশ রয়েছে সেসব খাবার খান। এতে আপনার টাইপ-টু ডায়েবেটিসের ঝুঁকি কমবে। প্রতিদিন কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম করে আঁশযুক্ত খাবার রাখুন খাদ্যতালিকায়। এতে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ডায়েবেটিস, ডায়েবেটিস সারার উপায়

১৪. প্রচুর পানি পান করুন
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।পানি দেহের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যক্রম চালানো সহজ করে দেবে। পর্যাপ্ত পানির অভাবে দেহের নানা সমস্যা হতে পারে।

১৫. স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো নীরবেই থাকে। এ কারণে ডায়েবেটিসে আক্রান্তরা তা বুঝতে পারেন না। ফলে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

১৬. সূর্যতাপ গ্রহণ করুন
ভিটামিন ডি দেহের ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। আর সূর্যতাপ ভিটামিন ডি গ্রহণের অন্যতম উপায়। তাই নিয়সিক সূর্যতাপ গ্রহণে ডায়াবেটিস দূরে থাকে। ডায়েবেটিস, ডায়েবেটিস সারার উপায়

১৭. মসলাসমৃদ্ধ খাবার খান
জার্মান গবেষণায় দেখা গেছে, দারুচিনিসমৃদ্ধ খাবার ডায়েবেটিস দূরে রাখতে সহায়তা করে। তাই খাবারে দারুচিনিসহ বিভিন্ন মসলা ব্যবহার করুন।

১৮. সয়ার খাবার খান
সয়া ডায়েবেটিস প্রতিরোধে ভূমিকা পালন করে। তাই সয়াযুক্ত খাবার খেয়ে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করুন। এটি রক্তের শর্করার মাত্রা কমাতে ভূমিকা রাখে।

১৯. গ্রিন টি পান করুন
নিয়মিত গ্রিন টি পান করুন। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ বিভিন্ন উপাদান রয়েছে, যা রক্তের শর্করা কমাতে ভূমিকা রাখে।

২০. ধূমপান বর্জন করুন
ধূমপানে ডায়েবেটিসের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এর কারণ হলো দেহের হরমোনজনিত পরিবর্তন। এ কারণে ডায়েবেটিস থেকে দূরে থাকতে ধূমপান বর্জন করা উচিত।

Read More
Dilip Poddar

ডায়াবেটিস -এ পেয়াজ, রসুনের উপকারিতা





ডায়াবেটিস,ডায়েবেটিস সারতে পেয়াজ, রসুন

ডায়াবেটিস যত বেশি দিনের হবে, রোগীর দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা তত বেশি দেখা দেবে। এর মধ্যে অন্যতম হল রক্তনালিতে সমস্যা এবং তার সম্পর্কিত জটিলতা (দীর্ঘদিন রক্তে বেশি পরিমাপ গ্লুকোজ থাকলে ) তা রক্তনালির দেয়ালের স্থায়ী ক্ষতি করে। এর সঙ্গে কোলেস্টেরল ও রক্তচাপও সম্পর্কিত। ইউরোপীর চিকিৎসকরা গত কয়েক দশক ধরে ডায়াবেটিসজনিত এ সব জটিলতা কমাতে বেনফোটিয়ামিন (ভিটামিন বি১ এর চর্বিতে দ্রবণীয় শ্রেণী) ব্যবহার করে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা দেখেছেন, বেনফোটিয়ামিন রক্তের অতিরিক্ত গ্লুকোজসহ এর সহযোগী বাকি দুটিকেও নিবৃত করে। ফলে রক্তনালি অটুক থাকে। ডায়াবেটিস,ডায়েবেটিস সারতে পেয়াজ, রসুন

এ জন্য ডায়াবেটিসের সুদূরপ্রসারি জটিলতা, যেমন— ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি, ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি, ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথি ইত্যাদি হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
রসুনে সামান্য পরিমাণ বেনফোটিয়ামিন থাকে। এ ছাড়া রসুন, পিয়াজ ইত্যাদিতে বেনফোটিয়ামিন পাওয়া যায়। এ সব ঝাঁঝাল সবজি খেতে খুব ভাল না লাগলেও উপকারের বিবেচনায় এরা বেশ আকর্ষণীয়।

Read More
Dilip Poddar

ডায়েবেটিস কমাবে ভিটামিন- D অবশ্যই দেখুন।





ডায়েবেটিস,ডায়েবেটিস কমাতে ভিটামিন-D


খুব ছোটবেলায় বাচ্চাদের ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট দিলে পরবর্তী জীবনে টাইপ ১ ডায়েবেটিসের ঝুঁকি কমানো যায়। এ নিয়ে অনেকগুলো গবেষণা বিশেস্নষণ করে ব্রিটিশ গবেষকরা তাৎপর্যপূর্ণ প্রমাণ পেলেন যে, এই ভিটামিনের সাপ্লিমেন্টের সঙ্গে ডায়েবেটিসের ঝুঁকি হ্রাসের রয়েছে যোগাযোগ..............
খুব ছোটবেলায় বাচ্চাদের ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট দিলে পরবর্তী জীবনে টাইপ ১ ডায়েবেটিসের ঝুঁকি কমানো যায়। এ নিয়ে অনেকগুলো গবেষণা বিশেস্নষণ করে ব্রিটিশ গবেষকরা তাৎপর্যপূর্ণ প্রমাণ পেলেন যে, এই ভিটামিনের সাপ্লিমেন্টের সঙ্গে ডায়েবেটিসের ঝুঁকি হ্রাসের রয়েছে যোগাযোগ। ডায়েবেটিস,ডায়েবেটিস কমাতে ভিটামিন-D

‘আর্কাইভস অব ডিজিজ ইন চাইল্ডহুড’ জার্নালে সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রবন্ধে ডাঃ ক্রিস্টোস জিপিটিস নামে শিশু বিশেষজ্ঞ ও মুখ্য গবেষক দেখিয়েছেন জন্ম থেকে শুরু করে যেসব শিশুকে কিছুকাল ভিটামিন-ডি সাপ্লিমেন্ট দেয়া হলো এবং যাদেরকে ১৫-৩০ বছর পর্যন্ত অনুসরণ করা হলো, এদের মধ্যে ডায়েবেটিসের ঝুঁকি কমেছে ২৯%। সাপ্লিমেন্টের পরিমাণ ১০ মাইক্রোগ্রাম বা ৪০০ আইইউ। শিশুদের মাল্টিভিটামিনে তেমন পরিমাণ ভিটামিন-ডি-ই থাকে। ডায়েবেটিস,ডায়েবেটিস কমাতে ভিটামিন-D

৬,৪৫৫ জন শিশু নিয়ে পরিচালিত তিনটি কেস্‌কন্‌ট্রোল স্টাডির উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে তার এ রিপোর্টে দেখানো হয়েছে যেসব শিশু সাপ্লিমেন্ট দেয়া হয়েছে, আর যাদের দেয়া হয়নি, এদের তুলনা করলে, যাদের ভিটামিন দেয়া হয়েছিল এদের টাইপ ১ ডায়েবেটিসের ঝুঁকি কমেছিলো ২৯%। ডাঃ জিপিটিস সর্বমোট পাঁচটি গবেষণা বিশেস্নষণ করে দেখেছেন, ভিটামিন-ডি’র মাত্রা বাড়ালে ও নিয়মিত গ্রহণে এর সুরক্ষা গুণ বাড়ে। ডাঃ জিপিটিস তাদের গবেষণায় দেখিয়েছেন, শৈশবে ভিটামিন-ডি গ্রহণে পরবর্তী জীবনে টাইপ ১ ডায়েবেটিস থেকে হয় সুরক্ষা। এই নতুন গবেষণায় সম্পর্কটি আরো জোরালো প্রমাণ পেলো। ডায়েবেটিস,ডায়েবেটিস কমাতে ভিটামিন-D

তবে প্রাপ্ত উপাত্তের মধ্যে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এই নতুন গবেষণা প্রবন্ধে দেখানো হয়নি সাপ্লিমেন্ট ছাড়া অন্যান্য উৎস থেকে কি পরিমাণ ভিটামিন-ডি শিশুরা পেয়েছিলো, শুরু করার সময়ই তাদের মধ্যে কাদের এই ভিটামিন-ডি ঘাটতি ছিলো? জিপিটির বলেন, ভিটামিন-ডি’র চরম ঘাটতিতে যাদের রিকেটস রোগ হয় তাদের টাইপ ১ ডায়েবেটিসের উচ্চঝুঁকি থাকে। তিনগুণ বেশি ঝুঁকি থাকে সাধারণ জনগোষ্ঠীর তুলনায়। বোঝা গেলো, শরীরে ভিটামিন-ডি যত বেশি, টাইপ ১ ডায়েবেটিসের সম্ভাবনা তত কম। ডায়েবেটিস,ডায়েবেটিস কমাতে ভিটামিন-D

অতীতের গবেষণাও এরকম ফলাফলের দিকেই ইঙ্গিত করেছে। রৌদ্রের কিরণ থেকে যেসব দেশ অনেকটা বঞ্চিত, সেসব দেশের তুলনায় যেসব দেশে রৌদ্রালোক অফুরন্ত, আর শরীরে এজন্য ভিটামিন-ডি উৎপাদন হয় পর্যাপ্ত, সেসব দেশের লোকদের মধ্যে টাইপ ১ ডায়েবেটিস অনেক কম। গবেষণায় দেখা গেছে ইউরোপে, বিলেতে ভিটামিন ডি ঘাটতি নতুনভাবে দেখা দিয়েছে, শিশুদের মধ্যে রিকেটস-এর পুনঃআবির্ভাব ঘটেছে। রৌদ্রালোক থেকে রক্ষার জন্য সানবস্নক ব্যবহার, রৌদ্রালোক কোনো কোনো ঋতুতে কম পড়া এসব উপাদান তো রয়েছেই। ডায়েবেটিস,ডায়েবেটিস কমাতে ভিটামিন-D

রক্তে ভিটামিন ডি মান কম থাকলে কেবল যে রিকেটস ও টাইপ ১ ডায়েবেটিস হতে পারে তাই নয়, ঝুঁকি থাকতে পারে অটোইম্যুন রোগ যেমন- রিউমাটয়েড আথ্রাইটিস ও মালটিপল স্ক্লেরোসিসের মত রোগের। এছাড়া কিছু বিরল তবে গুরুতর রোগ কার্ডিও মায়োপ্যাথি গবেষণা থেকে দেখা গেছে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের রয়েছে যথেষ্ট হিতকরী ফলাফল। হাড় তো মজবুত হয়ই, এতে কমে অনেক ধরনের ক্যান্সারেরও ঝুঁকি। ১৭৯ জন রজঃনিবৃত্তি-উত্তর মহিলাদের ওপর গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনে ২০০৭ সালে। দেখা গেছেঃ যেসব মহিলার দিনে ক্যালসিয়াম ও ১১০০ আইইউ ভিটামিন-ডি গ্রহণ করেছেন এদের অন্য মহিলাদের তুলনা ৮০% কম ক্যান্সার হয়েছে। ডায়েবেটিস,ডায়েবেটিস কমাতে ভিটামিন-D

আমেরিকান একাডেমী অব পেডিয়াট্রিস ছোট্ট শিশুদের জন্য প্রতিদিন ২০০ আইইউ ভিটামিন-ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেনঃ দুই মাস বয়স থেকে।

Read More
Dilip Poddar

ডায়েবেটিস এবং অন্য রোগে গোলমরিচের গুনাগুন দেখেনিন।





ডায়েবেটিস,গোলমরিচ

ডায়েবেটিসে গোলমরিচ খুবই উপকারী।
খাবারের স্বাদ বাড়াতে নানা ধরনের মসলা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে কালো গোলমরিচ অন্যতম। এটি অমলেট, পাস্তা, সবজি, ফ্রাইসহ নানা ধরনের রান্নায় স্বাদ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে স্বাদ বাড়ানো ছাড়া কি আর কোনো ভূমিকা নেই? গবেষকরা বলছেন, কালো গোলমরিচ স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। এটি শরীরের পরিপাক ক্রিয়ায় সহায়তার পাশাপাশি হৃদরোগ প্রতিরোধেও অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়া শরীর ব্যথা ও গেঁটেবাত দূর করতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গোলমরিচের ওপর চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ডায়েবেটিস প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর। ডায়েবেটিস,গোলমরিচ

গোলমরিচকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ‘পাওয়ার হাউস’ বলা হয়ে থাকে। গোলমরিচের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। গোলমরিচের ঔষধি গুণের কারণে এটি বহু বছর ধরে নানা ধরনের ওষুধ তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া

Read More